বেসরকারি বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বা মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ কেনার নতুন পাইকারি দর নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি।একই সঙ্গে জাতীয় সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন ব্যবহারের জন্য ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফও চূড়ান্ত করেছে কমিশন। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একক ক্রেতা হিসেবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা বিপিডিবি সংযোগের ভোল্টেজভেদে প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুৎ ৬ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ৭ টাকা ১১ পয়সা দরে কিনতে পারবে। আগামী অক্টোবর থেকেই এই নতুন হার কার্যকর হবে।নীতিমালা অনুযায়ী, মার্চেন্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি বড় শিল্পগ্রাহকের কাছে বিক্রি করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করবেন।তবে সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে বিইআরসি নির্ধারিত ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ পরিশোধ করতে হবে।সংযোগের ধরন ও ভোল্টেজ অনুযায়ী এই মাশুল প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২২ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৯০ দশমিক ৯৭ পয়সা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
আড়ও পড়ুন,নতুন পণ্যের টিভিসি নিয়ে হাজির স্টেপ ফুটওয়্যার, মডেল নুসরাত ফারি
বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক আলাদা বিতরণ সংস্থার এলাকায় থাকলে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা বিতরণ মাশুল যুক্ত হবে। তবে উভয় পক্ষ একই বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকলে এই অতিরিক্ত মাশুল প্রযোজ্য হবে না।বিতরণ সংস্থাভেদেও আলাদা মাশুল নির্ধারণ করেছে কমিশন। প্রতি ইউনিটে পিডিবির জন্য ৭০ পয়সা, আরইবির জন্য ১ টাকা ৪৩ পয়সা, ডিপিডিসির জন্য ৮৫ পয়সা, ডেসকোর জন্য ৯৯ পয়সা, ওজোপাডিকোর জন্য ৮৭ পয়সা এবং নেসকোর জন্য ১ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ২০২৫ সালে মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালা করে। এই নীতিমালায় কেন্দ্রগুলো ঘোষিত মাসিক উৎপাদনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সরকারি সংস্থার কাছে বিক্রি এবং বাকি ৮০ শতাংশ বড় বেসরকারি গ্রাহকের কাছে সরাসরি সরবরাহের সুযোগ পায়।এর আগে গত ২৩ আগস্ট এ বিষয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি। সেখানে কমিশনের মূল্যায়ন কমিটি সরকারি ক্রয়ের দর ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৪৮ পয়সা করার সুপারিশ করেছিল।
মতামত