অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের ট্যারিফ অনুযায়ী টেসলা ও মার্সিডিজ বেঞ্জসহ অন্তত ১৪৬টি এইচএস কোডভুক্ত গাড়ি আমদানিতে শুল্ক-করের হার মাল্টার চেয়েও কম। এ কারণে তাজা ফলের ওপর উচ্চ করভার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আমদানিকারকেরা। সম্প্রতি আমদানি কমে যাওয়ায় দেশের খুচরা বাজারে মাল্টার দাম কেজিপ্রতি ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। সরবরাহ বাড়ার পর দাম কিছুটা কমে বর্তমানে প্রায় ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আরও পড়ুন,যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ও ফেডের সুদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় বাড়ল সোনার দাম তবে আমদানি পর্যায়ে পণ্যের দামের তুলনায় শুল্ক-কর বেশি হওয়ায় বাজারে মাল্টার দাম কমিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল আলমের দাবি, বিশ্বের কোথাও ফল আমদানিতে এত বেশি শুল্ক-কর নেই। বাংলাদেশে মাল্টাসহ তাজা ফল আমদানিতে শুল্ক-করভার অনেক ক্ষেত্রে গাড়ির চেয়েও বেশি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে মাল্টা আমদানিতে মোট শুল্ক-করভার ছিল ৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। তখন প্রতি কেজি মাল্টায় শুল্ক-কর দিতে হতো প্রায় ১২ টাকা। ধাপে ধাপে করভার বাড়তে বাড়তে ২০২১-২২ অর্থবছরে তা ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশে পৌঁছে। তখন প্রতি কেজিতে শুল্ক-কর ছিল প্রায় ৩৮ টাকা। এরপর ২০২২ সালের মে মাসে ডলার-সংকটের মধ্যে আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ফলের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়। এতে মাল্টার মোট শুল্ক-করভার বেড়ে প্রায় ১১৪ শতাংশে ওঠে। বর্তমানে সেই করভার আরও বেড়ে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফলে রোগীর পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত একটি সাধারণ ফল আমদানিতে এত উচ্চ করভার ভোক্তা পর্যায়ে দামের ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে—এ নিয়েই এখন নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের পথ্য হিসেবে বহুল ব্যবহৃত মাল্টা আমদানিতে শুল্ক-করভার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আমদানি পর্যায়ে প্রতি কেজি মাল্টার দাম যেখানে প্রায় ৮৭ টাকা সেখানে এর জন্যই শুল্ক-কর দিতে হচ্ছে প্রায় ১০৭ টাকা। অর্থাৎ পণ্যের মূল্যের তুলনায় মাল্টা আমদানিতে শুল্ক-করভার দাঁড়িয়েছে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে মাল্টা করভার ১২১ শতাংশ
মতামত