শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে মাল্টা করভার ১২১ শতাংশ

৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে মাল্টা করভার ১২১ শতাংশ

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের পথ্য হিসেবে বহুল ব্যবহৃত মাল্টা আমদানিতে শুল্ক-করভার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আমদানি পর্যায়ে প্রতি কেজি মাল্টার দাম যেখানে প্রায় ৮৭ টাকা সেখানে এর জন্যই শুল্ক-কর দিতে হচ্ছে প্রায় ১০৭ টাকা। অর্থাৎ পণ্যের মূল্যের তুলনায় মাল্টা আমদানিতে শুল্ক-করভার দাঁড়িয়েছে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের ট্যারিফ অনুযায়ী টেসলা ও মার্সিডিজ বেঞ্জসহ অন্তত ১৪৬টি এইচএস কোডভুক্ত গাড়ি আমদানিতে শুল্ক-করের হার মাল্টার চেয়েও কম। এ কারণে তাজা ফলের ওপর উচ্চ করভার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আমদানিকারকেরা। সম্প্রতি আমদানি কমে যাওয়ায় দেশের খুচরা বাজারে মাল্টার দাম কেজিপ্রতি ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। সরবরাহ বাড়ার পর দাম কিছুটা কমে বর্তমানে প্রায় ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আরও পড়ুন,যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ও ফেডের সুদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় বাড়ল সোনার দামতবে আমদানি পর্যায়ে পণ্যের দামের তুলনায় শুল্ক-কর বেশি হওয়ায় বাজারে মাল্টার দাম কমিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল আলমের দাবি, বিশ্বের কোথাও ফল আমদানিতে এত বেশি শুল্ক-কর নেই। বাংলাদেশে মাল্টাসহ তাজা ফল আমদানিতে শুল্ক-করভার অনেক ক্ষেত্রে গাড়ির চেয়েও বেশি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে মাল্টা আমদানিতে মোট শুল্ক-করভার ছিল ৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। তখন প্রতি কেজি মাল্টায় শুল্ক-কর দিতে হতো প্রায় ১২ টাকা। ধাপে ধাপে করভার বাড়তে বাড়তে ২০২১-২২ অর্থবছরে তা ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশে পৌঁছে। তখন প্রতি কেজিতে শুল্ক-কর ছিল প্রায় ৩৮ টাকা। এরপর ২০২২ সালের মে মাসে ডলার-সংকটের মধ্যে আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ফলের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়। এতে মাল্টার মোট শুল্ক-করভার বেড়ে প্রায় ১১৪ শতাংশে ওঠে। বর্তমানে সেই করভার আরও বেড়ে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফলে রোগীর পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত একটি সাধারণ ফল আমদানিতে এত উচ্চ করভার ভোক্তা পর্যায়ে দামের ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে—এ নিয়েই এখন নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে টেসলার গাড়ি বিক্রি

যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির চাহিদা কমে যাওয়ায় চাপের মুখে পড়েছে টেসলার বিক্রি। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টেসলা বিশ্বজুড়ে ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি সরবরাহ করেছে। গত বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহ করেছিল ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯টি গাড়ি। ফলে এক বছরের ব্যবধানে সরবরাহ কমেছে প্রায় ২ শতাংশ। তবে টেসলার এই সরবরাহ বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। বিশ্লেষকরা তৃতীয় প্রান্তিকে ৪ লাখ ৬১ হাজার ৯৭৪টি গাড়ি সরবরাহের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। অর্থাৎ পূর্বাভাসের চেয়ে প্রায় ২৪ হাজার ৫৫৮টি বেশি গাড়ি সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে টেসলার ওপর চাপের অন্যতম কারণ হিসেবে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ৭ হাজার ৫০০ ডলারের কর সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। গত বছর এই সুবিধা শেষ হওয়ার আগে অনেক মার্কিন ক্রেতা দ্রুত বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি কিনেছিলেন। ফলে তখন টেসলার বিক্রি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছিল।আরও পড়ুন,আট মাসেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বাড়ল ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবার সেই তুলনায় চাহিদা কমেছে। টেসলা অঞ্চলভিত্তিক বিক্রির তথ্য প্রকাশ না করলেও গবেষণা প্রতিষ্ঠান কক্স অটোমোটিভের হিসাবে তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে টেসলার বিক্রি ৩১ শতাংশ কমে ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৮০ ইউনিটে নেমে আসতে পারে। শুধু টেসলা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য গাড়ি নির্মাতারাও একই ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে ফোর্ডের যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি বিক্রি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৫ লাখ ৯ হাজার ৭৬৪ ইউনিট হয়েছে। জেনারেল মোটরসের বিক্রিও কমেছে ৬ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৬ লাখ ৭০ হাজার ৯৭৪টি গাড়ি বিক্রি করেছে। তবে ইউরোপের বাজারে টেসলার পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। জ্বালানির দাম বাড়ায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির চাহিদা বেড়েছে। একই সঙ্গে ইলন মাস্কের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে গত বছর তৈরি হওয়া বিরূপ প্রতিক্রিয়াও কিছুটা কমেছে। ফলে ইউরোপে টেসলার বিক্রি আবার বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে টেসলার গাড়ি বিক্রি