চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় কনটেইনার টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি পরিচালনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার ঢাকায় এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি টার্মিনালের পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলো। এর আগে পতেঙ্গা ও লালদিয়া টার্মিনাল পরিচালনা এবং উন্নয়নের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব অনেক বেশি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশ এ বন্দর দিয়ে পরিবহন হয়েছে। সমুদ্রপথে দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ কনটেইনার পরিবহনও হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। ফলে বন্দরের দক্ষতা, পরিচালন ব্যয় এবং পণ্য খালাসের গতির সঙ্গে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি কনটেইনার টার্মিনাল চালু রয়েছে। এগুলো হলো নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল, চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল এবং জেনারেল কার্গো বার্থ। এর মধ্যে নিউমুরিং ও পতেঙ্গা টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন,শাহ আমানত বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব করার উদ্যোগ
লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় এসেছে। চুক্তি অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ড ১৫ বছর এনসিটি পরিচালনা করবে। দুই পক্ষের সম্মতিতে এ মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। টার্মিনাল আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি হালনাগাদ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি ১৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ কোটি ডলার এককালীন অর্থ হিসেবে বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার কথা রয়েছে। এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল। বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ এ টার্মিনালের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। গত অর্থবছরে এখানে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে। নতুন চুক্তিতে বছরে ন্যূনতম ১২ লাখ ৩০ হাজার একক কনটেইনার পরিচালনার শর্ত রয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে অপারেটরের আর্থিক জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আগের ব্যবস্থায় সাধারণত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদে অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হতো। বন্দরের অবকাঠামো, জেটি ও যন্ত্রপাতির মালিকানা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মূলত বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে থাকত। নতুন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে টার্মিনাল পরিচালনা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে টার্মিনালের মালিকানা থাকছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে।
মতামত