শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

২০৩০ সালের আগেই বিশ্বঋণ জিডিপির ১০০ শতাংশ ছাড়ানোর শঙ্কা, চাপে বাংলাদেশও


ক্রাইম এক্সপ্রেস
ক্রাইম এক্সপ্রেস

২০৩০ সালের আগেই বিশ্বঋণ জিডিপির ১০০ শতাংশ ছাড়ানোর শঙ্কা, চাপে বাংলাদেশও
২০৩০ সালের আগেই বিশ্বঋণ জিডিপির ১০০ শতাংশ

বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহে সংকট, উচ্চ সুদহার ও সরকারি ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝায় চাপে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি। এমন পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হয়েছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের বার্ষিক সভা। সোমবার, ১২ অক্টোবর শুরু হওয়া এ সম্মেলন চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারকেরা অংশ নিচ্ছেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সরকারি ঋণের চাপ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার বিষয়গুলো এবারের বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাব সম্মেলনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। 

আরও পড়ুন,ডলারের গড় দাম ১২৩ টাকা ২৮ পয়সা, বেড়েছে বেশির ভাগ মুদ্রার দর

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ঘিরে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বড় ধরনের ধাক্কার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তা তুলনামূলকভাবে সামলানো সম্ভব হয়েছে। তবে ডিজেল ও সারের দাম বৃদ্ধি এবং এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এতে কৃষি উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে জ্বালানি সরবরাহের চাপ মোকাবিলায় জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে জি-৭ জোটের দেশগুলো বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ শতাংশ। তবে যুদ্ধের প্রভাব, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে এ পূর্বাভাস পরিবর্তিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সরকারি ঋণ নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। আইএমএফের আশঙ্কা, ২০৩০ সালের আগেই বৈশ্বিক সরকারি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। উচ্চ সুদহারের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে পুঁজি বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এ পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে বাড়তে পারে আমদানি ব্যয়, চাপে পড়তে পারে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে চাহিদা কমে গেলে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিষয় : বাংলাদেশ জিডিপি বিশ্বঋণ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ক্রাইম এক্সপ্রেস

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


২০৩০ সালের আগেই বিশ্বঋণ জিডিপির ১০০ শতাংশ ছাড়ানোর শঙ্কা, চাপে বাংলাদেশও

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহে সংকট, উচ্চ সুদহার ও সরকারি ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝায় চাপে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি। এমন পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হয়েছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের বার্ষিক সভা। সোমবার, ১২ অক্টোবর শুরু হওয়া এ সম্মেলন চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারকেরা অংশ নিচ্ছেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সরকারি ঋণের চাপ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার বিষয়গুলো এবারের বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাব সম্মেলনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। 

আরও পড়ুন,ডলারের গড় দাম ১২৩ টাকা ২৮ পয়সা, বেড়েছে বেশির ভাগ মুদ্রার দর

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ঘিরে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বড় ধরনের ধাক্কার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তা তুলনামূলকভাবে সামলানো সম্ভব হয়েছে। তবে ডিজেল ও সারের দাম বৃদ্ধি এবং এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এতে কৃষি উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে জ্বালানি সরবরাহের চাপ মোকাবিলায় জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে জি-৭ জোটের দেশগুলো বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ শতাংশ। তবে যুদ্ধের প্রভাব, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে এ পূর্বাভাস পরিবর্তিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সরকারি ঋণ নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। আইএমএফের আশঙ্কা, ২০৩০ সালের আগেই বৈশ্বিক সরকারি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। উচ্চ সুদহারের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে পুঁজি বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এ পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে বাড়তে পারে আমদানি ব্যয়, চাপে পড়তে পারে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে চাহিদা কমে গেলে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


ক্রাইম এক্সপ্রেস

সম্পাদক : রিপন রুদ্র
নির্বাহী সম্পাদক:জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
২০৩০ সালের আগেই বিশ্বঋণ জিডিপির ১০০ শতাংশ ছাড়ানোর শঙ্কা, চাপে বাংলাদেশও
0:00 0:00
1.0x