শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

মৃত্যুর আগের দিনও গেয়েছিলেন গান, ৫৮ বছরেই থেমে যায় কিশোর কুমারের কিংবদন্তি কণ্ঠ


ক্রাইম এক্সপ্রেস
ক্রাইম এক্সপ্রেস

মৃত্যুর আগের দিনও গেয়েছিলেন গান, ৫৮ বছরেই থেমে যায় কিশোর কুমারের কিংবদন্তি কণ্ঠ
কিশোর কুমারের কিংবদন্তি কণ্ঠ

গানে মাতিয়েছেন অসংখ্য শ্রোতাকে, অভিনয়ে হাসিয়েছেন দর্শককে। আবার নিজের খামখেয়ালি স্বভাব ও অদ্ভুত সব কাণ্ডে হয়েছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা কিশোর কুমার। তাঁর জীবন যেমন ছিল বৈচিত্র্যে ভরা, তেমনি মৃত্যুর শেষ অধ্যায় ঘিরেও রয়েছে নানা স্মৃতি, কৌতূহল ও আবেগঘন ঘটনা। মৃত্যুর আগে ছেলের জন্য অপেক্ষা, অসুস্থতার মধ্যেও রসিকতা এবং জীবনের শেষ দিনগুলোর কর্মব্যস্ততা সব মিলিয়ে কিশোর কুমারের শেষ সময় আজও ভক্তদের আলোচনায় ফিরে আসে। ১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর মাত্র ৫৮ বছর বয়সে মারা যান কিশোর কুমার। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর মৃত্যুর কারণ ছিল হৃদ্‌রোগ। তবে মৃত্যুর আগে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা তাঁর জীবনকে ঘিরে তৈরি করেছে বিশেষ রহস্যময় আবহ। বিশেষ করে ছেলে অমিত কুমারের স্মৃতিচারণায় উঠে আসা কিছু ঘটনা ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগায়—নিজের জীবনের শেষ সময় সম্পর্কে কি কোনো ধারণা পেয়েছিলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী? কিশোর কুমারের মৃত্যুকে ঘিরে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হলো কথিত ভবিষ্যদ্বাণী। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে আসামে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে এক ট্যারো কার্ড পাঠকের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। ওই ব্যক্তি নাকি কিশোরকে বলেছিলেন, তাঁর হাতে আর সাত বছর সময় রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ছেলে অমিত কুমারের স্মৃতিচারণার সূত্র ধরে ঘটনাটি আবার আলোচনায় আসে। যদিও এই ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়, তবু কিশোরের অকালমৃত্যুর সঙ্গে এর সময়গত সম্পর্ক নিয়ে অনেকের কৌতূহল রয়েছে।

আরও পড়ুন,প্রাক্তন স্ত্রীর বিয়ে নিজেই পরিচালনা করলেন স্পাইডার-ম্যান তারকা টোবি ম্যাগুয়ার

 কিশোর কুমারের জীবনের শেষ দিনটি ছিল ১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর। সে সময় তাঁর ছেলে অমিত কুমার যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনুষ্ঠানের সফরে ছিলেন। সফরের শেষ পর্যায়ে তিনি কানাডার টরন্টোতে অবস্থান করছিলেন। বাবার অনুরোধে কিছু ইংরেজি সিনেমার ভিডিও ক্যাসেট কেনার কথাও তাঁর মনে ছিল। কিন্তু তখনো তিনি জানতেন না, দেশে ফিরে বাবার সঙ্গে আর দেখা হবে না। অমিত কুমারের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, মৃত্যুর দিন তাঁর ফেরার সময় নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন কিশোর কুমার। ছেলে কখন ফিরবেন, বিমান সময়মতো পৌঁছাবে কি না এসব বিষয় নিয়ে তিনি খোঁজখবর নিচ্ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেদিন তাঁর আচরণেও কিছুটা অস্থিরতা ছিল বলে স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে। তবে এসব ঘটনা থেকে তিনি নিজের মৃত্যুর সময় আগেই বুঝতে পেরেছিলেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। কিশোর কুমারের শেষ মুহূর্তের আরেকটি আলোচিত ঘটনা তাঁর রসিকতাপ্রবণ স্বভাবকে সামনে নিয়ে আসে। মৃত্যুর দিন তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন এবং কাঁধে ব্যথার কথাও জানিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন জীবনীভিত্তিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর স্ত্রী লীনা চন্দাভারকর প্রথমে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি বলে স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ডাকার প্রসঙ্গ আসে। তখন কিশোর কুমার নাকি রসিকতা করে বলেছিলেন, চিকিৎসক ডাকলে তাঁর সত্যিই হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে। কথাটি তাঁর পরিচিত হাস্যরসেরই প্রতিফলন ছিল বলে বর্ণনা করা হয়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কিশোর কুমারের জীবনের শেষ কর্মদিবসটিও ছিল সংগীতময়। মৃত্যুর ঠিক আগের দিন, ১২ অক্টোবর, মুম্বাইয়ের মাহবুব স্টুডিওতে সংগীত পরিচালক বাপ্পি লাহিড়ীর সুরে ‘গুরু গুরু’ গানটি রেকর্ড করেছিলেন তিনি। গানটি ছিল মিঠুন চক্রবর্তী ও শ্রীদেবী অভিনীত ‘ওয়াক্ত কি আওয়াজ’ চলচ্চিত্রের জন্য।

বিষয় : মৃত্যু কিংবদন্তি কিশোর কুমার

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ক্রাইম এক্সপ্রেস

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


মৃত্যুর আগের দিনও গেয়েছিলেন গান, ৫৮ বছরেই থেমে যায় কিশোর কুমারের কিংবদন্তি কণ্ঠ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

গানে মাতিয়েছেন অসংখ্য শ্রোতাকে, অভিনয়ে হাসিয়েছেন দর্শককে। আবার নিজের খামখেয়ালি স্বভাব ও অদ্ভুত সব কাণ্ডে হয়েছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা কিশোর কুমার। তাঁর জীবন যেমন ছিল বৈচিত্র্যে ভরা, তেমনি মৃত্যুর শেষ অধ্যায় ঘিরেও রয়েছে নানা স্মৃতি, কৌতূহল ও আবেগঘন ঘটনা। মৃত্যুর আগে ছেলের জন্য অপেক্ষা, অসুস্থতার মধ্যেও রসিকতা এবং জীবনের শেষ দিনগুলোর কর্মব্যস্ততা সব মিলিয়ে কিশোর কুমারের শেষ সময় আজও ভক্তদের আলোচনায় ফিরে আসে। ১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর মাত্র ৫৮ বছর বয়সে মারা যান কিশোর কুমার। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর মৃত্যুর কারণ ছিল হৃদ্‌রোগ। তবে মৃত্যুর আগে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা তাঁর জীবনকে ঘিরে তৈরি করেছে বিশেষ রহস্যময় আবহ। বিশেষ করে ছেলে অমিত কুমারের স্মৃতিচারণায় উঠে আসা কিছু ঘটনা ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগায়—নিজের জীবনের শেষ সময় সম্পর্কে কি কোনো ধারণা পেয়েছিলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী? কিশোর কুমারের মৃত্যুকে ঘিরে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হলো কথিত ভবিষ্যদ্বাণী। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে আসামে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে এক ট্যারো কার্ড পাঠকের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। ওই ব্যক্তি নাকি কিশোরকে বলেছিলেন, তাঁর হাতে আর সাত বছর সময় রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ছেলে অমিত কুমারের স্মৃতিচারণার সূত্র ধরে ঘটনাটি আবার আলোচনায় আসে। যদিও এই ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়, তবু কিশোরের অকালমৃত্যুর সঙ্গে এর সময়গত সম্পর্ক নিয়ে অনেকের কৌতূহল রয়েছে।

আরও পড়ুন,প্রাক্তন স্ত্রীর বিয়ে নিজেই পরিচালনা করলেন স্পাইডার-ম্যান তারকা টোবি ম্যাগুয়ার

 কিশোর কুমারের জীবনের শেষ দিনটি ছিল ১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর। সে সময় তাঁর ছেলে অমিত কুমার যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনুষ্ঠানের সফরে ছিলেন। সফরের শেষ পর্যায়ে তিনি কানাডার টরন্টোতে অবস্থান করছিলেন। বাবার অনুরোধে কিছু ইংরেজি সিনেমার ভিডিও ক্যাসেট কেনার কথাও তাঁর মনে ছিল। কিন্তু তখনো তিনি জানতেন না, দেশে ফিরে বাবার সঙ্গে আর দেখা হবে না। অমিত কুমারের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, মৃত্যুর দিন তাঁর ফেরার সময় নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন কিশোর কুমার। ছেলে কখন ফিরবেন, বিমান সময়মতো পৌঁছাবে কি না এসব বিষয় নিয়ে তিনি খোঁজখবর নিচ্ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেদিন তাঁর আচরণেও কিছুটা অস্থিরতা ছিল বলে স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে। তবে এসব ঘটনা থেকে তিনি নিজের মৃত্যুর সময় আগেই বুঝতে পেরেছিলেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। কিশোর কুমারের শেষ মুহূর্তের আরেকটি আলোচিত ঘটনা তাঁর রসিকতাপ্রবণ স্বভাবকে সামনে নিয়ে আসে। মৃত্যুর দিন তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন এবং কাঁধে ব্যথার কথাও জানিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন জীবনীভিত্তিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর স্ত্রী লীনা চন্দাভারকর প্রথমে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি বলে স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ডাকার প্রসঙ্গ আসে। তখন কিশোর কুমার নাকি রসিকতা করে বলেছিলেন, চিকিৎসক ডাকলে তাঁর সত্যিই হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে। কথাটি তাঁর পরিচিত হাস্যরসেরই প্রতিফলন ছিল বলে বর্ণনা করা হয়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কিশোর কুমারের জীবনের শেষ কর্মদিবসটিও ছিল সংগীতময়। মৃত্যুর ঠিক আগের দিন, ১২ অক্টোবর, মুম্বাইয়ের মাহবুব স্টুডিওতে সংগীত পরিচালক বাপ্পি লাহিড়ীর সুরে ‘গুরু গুরু’ গানটি রেকর্ড করেছিলেন তিনি। গানটি ছিল মিঠুন চক্রবর্তী ও শ্রীদেবী অভিনীত ‘ওয়াক্ত কি আওয়াজ’ চলচ্চিত্রের জন্য।


ক্রাইম এক্সপ্রেস

সম্পাদক : রিপন রুদ্র
নির্বাহী সম্পাদক:জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মৃত্যুর আগের দিনও গেয়েছিলেন গান, ৫৮ বছরেই থেমে যায় কিশোর কুমারের কিংবদন্তি কণ্ঠ
0:00 0:00
1.0x