শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
জ্যোতিনগর কলোনিতে পানিসংকট, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

জ্যোতিনগর কলোনিতে পানিসংকট, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দাদের পানি সরবরাহ বন্ধ ও উচ্ছেদের নোটিশ ঘিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য সমীরুল ইসলাম।সম্প্রতি কলোনিটির পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চিঠিটি প্রকাশ করেন তিনি। সমীরুলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিশোধ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কলোনির বাসিন্দাদের মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তবে তাঁর এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনিতে পাঁচটি পানির কল দিয়ে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত পানি সরবরাহ করা হতো। কিন্তু গত ২৯ জুলাই থেকে কলগুলোতে পানি আসছে না। তাঁদের অভিযোগ, রাস্তা মেরামতের কাজ চলার সময় ২৮ জুলাই রাতে কলোনির মূল পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। একই সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। আরোও পড়ুন,রিয়াদ বিমানবন্দরে একের পর এক হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসার উদ্বেগ সৌদিরবাসিন্দারা আরও জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরে পুনরায় চালু করা হলেও পানির সংকট কাটেনি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি বলে তাঁদের অভিযোগ। সমীরুল ইসলাম তাঁর চিঠিতে বলেছেন, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাওয়া মানুষের মৌলিক মানবাধিকারের অংশ। দীর্ঘদিন পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় কলোনির বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ ও বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, কলোনির জমির মালিকানা ও উচ্ছেদ নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। জমিটি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট ট্রাস্টের অধীন। বন্দর কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বাসিন্দারা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্ট উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, বন্দর কর্তৃপক্ষ জমি দখল, রাজস্ব ক্ষতি ও নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয় তুলে ধরেছে। ফলে পানি সরবরাহ পুনরুদ্ধার, বাসিন্দাদের অধিকার এবং জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দাদের দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, এমপিদের পরিবার নিয়ে হাসনাতের কটাক্ষ

কোনো সরকার নতুন করে বিধবা কিংবা বেকার কার্ড চালু করলে সংসদ সদস্যদের স্ত্রীরাই সবার আগে তা নেবেন—এমন মন্তব্য করে স্বজনপ্রীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের সমালোচনা করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। সাম্প্রতিক সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের পরিবারের সদস্যদের সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি এ মন্তব্য করেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মহানগর ছাত্রশক্তি আয়োজিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বক্তব্যে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সম্প্রতি ডিলার নিয়োগে সংসদ সদস্যদের ছেলে-মেয়ে এমনকি শ্যালিকারাও ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে দেখা গেছে।আরও পড়ুন,দেশে হত্যা-ধর্ষণ-ছিনতাই রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি মামুনুল হকেরএ পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে সরকার বিধবা কিংবা বেকার কার্ড চালু করলে সংসদ সদস্যদের স্ত্রীরাই সবার আগে তা নেবেন। তাঁর এ বক্তব্যে সরকারি সুবিধা বণ্টন ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে যেসব সার ডিলার নিয়োগের প্রসঙ্গ তিনি উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর বিস্তারিত তথ্য বা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন এনসিপির এই নেতা। এ সময় তিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্যকে ঘিরে অসন্তোষের প্রসঙ্গ তোলেন। হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কেউই বর্তমান উপাচার্যকে চান না। এ ছাড়া একটি বিশেষ গোষ্ঠী দেশকে আবারও পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ সরকারি সুবিধা বণ্টন, সার ডিলার নিয়োগ এবং শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে যোগ্যতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আবারও আলোচনায় এসেছে।

সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, এমপিদের পরিবার নিয়ে হাসনাতের কটাক্ষ

যৌন হেনস্তার অভিযোগের মধ্যেই দিল্লি পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি

নারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ওঠার পরও দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে পরে দিল্লি সরকার ওই পদোন্নতির নির্দেশ স্থগিত করেছে। নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীরা ২ অক্টোবর থেকে ধারাবাহিক বিক্ষোভ করে আসছে। এসব কর্মসূচিতে প্রতিদিনই যন্তর মন্তরের দিকে মিছিলের চেষ্টা করছেন বিক্ষোভকারীরা। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটছে। গত শনিবার বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন নারী সাংবাদিক কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে দিল্লি পুলিশের সহকারী কমিশনার বিবেক ভগতের নামও রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার দিল্লি পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আরও ১১ কর্মকর্তার সঙ্গে বিবেক ভগতকেও সহকারী কমিশনার থেকে ডেপুটি কমিশনার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী সাংবাদিকেরা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে থানায় গেলেও তা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি অপরাধ শাখা তদন্ত করছে। তদন্তের পর এফআইআরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যৌন হেনস্তার অভিযোগ পাওয়ার পর এফআইআর দায়ের করা উচিত ছিল। আরও পড়ুন,চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল ২০২৬ আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেলের আবিষ্কারে সম্মানিত তিনজনএই পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তার পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।সোমবার গভীর রাতে দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানানো হয়, বিবেক ভগতের পদোন্নতির নির্দেশ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।সরকারের বার্তা অনুযায়ী, ১২ কর্মকর্তার পদোন্নতির সিদ্ধান্ত বিক্ষোভের ঘটনার আগেই ২৫ সেপ্টেম্বর নেওয়া হয়েছিল এবং ৫ অক্টোবর তা আনুষ্ঠানিকভাবে জারি হয়। তবে বিবেক ভগত নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি পদোন্নতি গ্রহণ করতে চান না। তাঁর অবস্থান অনুযায়ী, তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এদিকে পদোন্নতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষোভকারীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ করা এক নারী সাংবাদিককেও বিক্ষোভস্থল থেকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করা হয়েছে। দলটির নেতা সৌরভ দাসের অভিযোগ, আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযোগকারী নারী সাংবাদিকেরা পুলিশের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তাঁদের এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাতকে সঙ্গে নিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে গেলেও অভিযোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে দলটি। ককরোচ জনতা পার্টির নেত্রী রত্না সিংয়ের অভিযোগ, পুলিশ অভিযোগকারী নারীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং তাঁদের আটক ও মুঠোফোন জব্দের চেষ্টা করছে।

যৌন হেনস্তার অভিযোগের মধ্যেই দিল্লি পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি

যন্তর মন্তরে নারী সাংবাদিকদের যৌন হয়রানির অভিযোগ

নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন তিন নারী সাংবাদিক। শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। অভিযোগকারী এক সাংবাদিক জানান, পুলিশ যখন বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছিল, তখন সেই দৃশ্য ধারণ করার সময় পুলিশের এক সহকারী কমিশনার বা এসিপি তাঁকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেন এবং ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। ঘটনার পর তিনি ও অন্য সাংবাদিকেরা থানায় গিয়ে মামলা করার চেষ্টা করেন। তবে তাঁদের অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন ওই সাংবাদিক। পরে দিল্লি পুলিশ জানায়, সাংবাদিকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে অভিযোগগুলো ক্রাইম ব্রাঞ্চে স্থানান্তর করা হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রতি পুলিশের এমন আচরণের অভিযোগে স্তম্ভিত ও হতাশা প্রকাশ করেছে প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া। সংস্থাটি বলেছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাংবাদিকদের ভয়ভীতি ছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহের সময় গণমাধ্যমকর্মীরা যেন হামলা বা হুমকির মুখে না পড়েন, আরও পড়ুন,বিলাসভ্রমণের সংজ্ঞা বদলেছে এখন প্রাধান্য পাচ্ছে ব্যক্তিগত পছন্দতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। এদিকে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে নারী সাংবাদিক ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের অসদাচরণের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কাছে জবাব দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। তাই নারী সাংবাদিকের অভিযোগ নথিভুক্ত না করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেই জবাব দিতে হবে। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালে শত শত মানুষকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নারী আন্দোলনকারীদের সঙ্গেও অসদাচরণ, সাংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাঁদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে সরকার একজন নারীর অভিযোগ নথিভুক্ত করতেও ভয় পায়, তারা আসলে কাকে রক্ষা করছে। একই সঙ্গে অমিত শাহর কাছে এ ঘটনার জবাব দাবি করেন তিনি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তের দিকেই নজর রয়েছে।

যন্তর মন্তরে নারী সাংবাদিকদের যৌন হয়রানির অভিযোগ

ঘাটাইলে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে স্ত্রী তামান্না ইসলম তন্নিকে (২০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো: রোমান মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে তাৎক্ষণিক আটক করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর খিলগাতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।মৃত তন্নি দেউলাবাড়ি ইউনিয়ন উত্তর খিলগাতি গ্রামের প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী রোমান মিয়া মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের শিবরামবাড়ি গ্রামের তুলা মিয়ার ছেলে।পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে রোমান মিয়া তার শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রীর সাথে এক রাত্রিযাপন করেন। রাতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক ঝামেলা নিয়ে কথা কাটাকাটি এবং মারামারি হয়। এক পর্যায়ে স্বামী রোমান শ্বশুর বাড়ির পরিবারের সবাইকে ডেকে জানান তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরে বুধবার ভোরে মুমূর্ষু অবস্থায় তন্নিকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  পরিবারের দাবি, তন্নির গলায় এবং সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদের ধারণা রাতেই স্বামীর দেয়া কোনো আঘাতে তার মৃত্যু হয়।  আড়ও পড়ুন,বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর কলেজছাত্রীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, রিজভী পলাতকতন্নির বাবা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়ের জামাই রাতেই আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করতে এসেছি।’ এলাকাবাসী জানায়, এক বছর আগে রোমানের সাথে বিয়ে হয় তন্নির। রাতে রোমান তন্নির ঘরে ছিলেন এবং তাদের ঝগড়া হয়। এ ব্যাপারে দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু হানিফ বলেন, ‘মেয়েটিকে অত্যাচার করে তার স্বামী মেরে ফেলেছে। মেয়েটির পরিবার একটি সুখী পরিবার। মাত্র এক বছর আগে অত্যন্ত ঘটা করে মেয়েটির বিয়ে হয়। এমন ঘটনা আগে কখনো আমাদের এলাকায় ঘটেনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সঠিক বিচার দাবি করছি।’ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকসেদুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত রোমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হসপিটাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

ঘাটাইলে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর কলেজছাত্রীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, রিজভী পলাতক

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক কলেজছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রিজভীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রিজভীকে সংগঠনের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে গাজীপুর জেলা ছাত্রদল। বিষয়টি একাধিক সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ওই শিক্ষার্থীকে কলেজে যাওয়া-আসার পথে রিজভী প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি পরিবারকে জানানোর পর রিজভীকে সতর্ক করা হয়। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে ওই ছাত্রীর সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও ছাত্রীর পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে। পরিবারের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার সকালে বাড়ির সামনে একটি দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে রিজভী ও তার কয়েকজন সহযোগী ওই কলেজছাত্রীকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। আড়ও পড়ুন,সাত ইসলামী দলের ঐক্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি, ২২ অক্টোবর বৈঠকে সমাধানের চেষ্টাএ ঘটনায় রিজভী, তার বাবা মনির হোসেন ও মা নিলুফা আক্তারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর গাজীপুর জেলা ছাত্রদল রিজভীকে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদসহ দলীয় দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করে। জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহাগ হোসেন জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে রিজভীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার এক প্রতিবেশী ও এক আত্মীয়ের দাবি, ঘটনাটি অপহরণ নয়; এটি প্রেমঘটিত বিষয়।এদিকে কলেজছাত্রীকে উদ্ধারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। মাওনা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহীনুর ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সম্ভাব্য কয়েকটি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর কলেজছাত্রীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, রিজভী পলাতক

জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হাত, অভিযোগ পলকের

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আদালতে হাজিরা শেষে কারাগারে ফেরত নেওয়ার সময় হাতকড়া পরা দুই হাত দেখিয়ে ‘জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হচ্ছে হাত’ বলে অভিযোগ করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে পলকের বিরুদ্ধে করা দুর্নীতি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে দুদক প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত আগামী ২৩ নভেম্বর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন। পরে পুলিশি প্রহরায় পলককে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতে হাজিরা শেষে হাজতখানা থেকে প্রিজনভ্যানে নেওয়ার সময় পলক হাতকড়া পরা দুই হাত উঁচিয়ে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হাত।’ তাঁর আইনজীবীরাও বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে পলকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম দাবি করেন, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা এবং বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে পলক নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে আইনজীবীর এ দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।আড়ও পড়ুন,চাঁদাবাজির ভয় নিয়ে চলতে হলে পরিবর্তন কোথায় দুদকের মামলায় পলককে আদালতে হাজির করা হলেও সোমবার তাঁকে এজলাসে তোলা হয়নি। তাঁকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৩ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে পলকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, পলক অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধ উপায়ে ৮ কোটি ৭৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। তাঁর নামে থাকা ২৫টি ব্যাংক হিসাবে ৩২ কোটি ৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জমা এবং ২৯ কোটি ৮৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে। দুদকের মামলার এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আইন অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন। ২০২৪ সালের আগস্টে পলককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হাত, অভিযোগ পলকের

আইপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের নতুন অভিযোগ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএলকে ঘিরে আবারও উঠেছে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ। এবার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস বা সিএসকে। তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি একটি স্টিং অপারেশনে সাবেক এক রনজি ক্রিকেটারের করা দাবির পর্যায়েই রয়েছে এবং অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়ার বিষয়। তেহেলকা’র একটি গোপন স্টিং অপারেশনের প্রতিবেদনে সাবেক রনজি ক্রিকেটার রচিত ভাটিয়ার বক্তব্য সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তিনি দাবি করেছেন ২০২৫ সালের আইপিএলে সিএসকের পাঁচটি ম্যাচে ভেতরের তথ্য ব্যবহার করে ফিক্সিং করেছিলেন।ভাটিয়ার দাবি অনুযায়ী সিএসকের চূড়ান্ত প্লেয়িং ইলেভেন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগেই তিনি সেই তথ্য লন্ডনের বুকিদের কাছে পাঠাতেন। এই যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা হতো স্ন্যাপচ্যাট। তাঁর দাবি অনুযায়ী প্রতি ম্যাচে তিনি ৬০ লাখ রুপি করে পেয়েছেন। পাঁচ ম্যাচে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩ কোটি রুপি। স্টিং অপারেশনে ভাটিয়া আরও দাবি করেন যে সিএসকে দলের একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে তিনি আগাম একাদশের তথ্য পেতেন। তবে তেহেলকার মূল প্রতিবেদনে ওই খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশ করা হয়নি। পরবর্তী কিছু প্রতিবেদনে ওই খেলোয়াড় হিসেবে একটি নাম সামনে এলেও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। আড়ও পড়ুন,২৮ বছরেই ক্লাবহীন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ফুটবলারএরপর অভিযোগের বিষয়টি গড়ায় দিল্লি প্রিমিয়ার লিগ বা ডিপিএলের দিকে। সেখানে আগাম প্লেয়িং ইলেভেনের তথ্য সরবরাহ এবং স্পট ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেওয়ার কথাও স্টিং অপারেশনে উঠে এসেছে।তেহেলকার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ডিপিএলে এক ম্যাচের আগে ভাটিয়া যে প্লেয়িং ইলেভেনের তথ্য দিয়েছিলেন তা পরে ঘোষিত একাদশের সঙ্গে মিলে যায় বলে তাদের তদন্তে দাবি করা হয়েছে। এদিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দিল্লি অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন বা ডিডিসিএ নড়েচড়ে বসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ডিপিএলের খেলোয়াড় হিসেবে থাকা তরুণ ক্রিকেটার ভ্যানশ বেদি একটি পৃথক ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটকে জানিয়েছিলেন। ডিডিসিএ এ বিষয়ে বিসিসিআইয়ের কাছেও দিকনির্দেশনা চেয়েছে।

আইপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের নতুন অভিযোগ

রিংয়ের দামে অনিয়মের অভিযোগ, রোগীদের নথি সংগ্রহ করল দুদক

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্ট বিক্রি এবং রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।এ ছাড়া সেবা দিতে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও রোগী হয়রানির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটিতে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদক।রোববার দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।দুদক জানিয়েছে, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নির্ধারিত নতুন মূল্য কার্যকর না করে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে হার্টের রিং বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ পাওয়া যায়।এর সঙ্গে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সেবা প্রদানে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগও ছিল।অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে।অভিযানকালে সম্প্রতি হার্টের রিং পরানো হয়েছে—এমন কয়েকজন রোগীর ক্ষেত্রে নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী লেনদেন হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়।এ জন্য দৈবচয়ন ভিত্তিতে রোগীদের লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে এনফোর্সমেন্ট টিম।আড়ও পড়ুন,অপ্রতিম হত্যা: ১২ ঘণ্টায় চার গ্রেপ্তার, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাসপাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি থাকা হার্টের রিং পরানো রোগীদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হয়।তাদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা হয়রানির ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক।তবে অভিযানেই অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন।অভিযানে সংগৃহীত তথ্য, রোগীদের বক্তব্য এবং রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করা হবে।এরপর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনের কাছে দাখিল করবে এনফোর্সমেন্ট টিম।সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই অভিযোগের সত্যতা এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।হার্টের রিংয়ের মূল্য ও রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়টি তাই এখন দুদকের যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে রয়েছে।

রিংয়ের দামে অনিয়মের অভিযোগ, রোগীদের নথি সংগ্রহ করল দুদক

খাবার দেওয়া নিয়ে ঝগড়ার পর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় খাবার দেওয়া নিয়ে ঝগড়ার পর আট বছরের মেয়ের পাশে ঘুমন্ত স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সুমন সরকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী রিনা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন সুমন। রোববার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাত নয়টার দিকে সুমন বাড়িতে ফিরে স্ত্রী রিনা বেগমকে খাবার দিতে বলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সুমন স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন। পরে স্বজনেরা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।রাত ১০টার দিকে রিনা বেগম তাঁর আট বছরের মেয়েকে নিয়ে একটি ছোট কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। সুমন ঘুমান পাশের বড় কক্ষে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক একটার দিকে সুমন স্ত্রীর কক্ষে গিয়ে মেয়ের পাশে ঘুমন্ত রিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।আড়ও পড়ুন,ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী আসিফ ও নাসীরুদ্দীনপুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর সুমন বাড়িতেই অবস্থান করেন। ভোরে মসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করে কুমিল্লার দিকে চলে যান। পরে তিনি বুড়িচং, চান্দিনা, দাউদকান্দি, তিতাস ও মেঘনা এলাকায় অবস্থান করেন বলে পুলিশ জানায়।তাঁকে গ্রেপ্তারে গজারিয়া থানা-পুলিশের একটি দল কুমিল্লায় অনুসরণ করতে থাকে। শনিবার দিবাগত রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলে টেংগারচর ইউনিয়নের ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।নিহত রিনা বেগমের সঙ্গে সুমন সরকারের প্রায় ১৭ বছর আগে বিয়ে হয়। তাঁদের ১৪ বছরের এক ছেলে ও আট বছরের এক মেয়ে রয়েছে। পুলিশ বলছে, এই দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল।এ ঘটনায় রিনার ভাই সাফায়েত হোসেন বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পরে গ্রেপ্তার সুমন সরকারকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

খাবার দেওয়া নিয়ে ঝগড়ার পর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি

জুলাই আন্দোলনের পর আলোচনায় উঠে আসা সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে নতুন করে আলোচনায়। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট তার ব্যাংক হিসাব তলবের পর নিজের ও পরিবারের ব্যাংক হিসাব প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আরও সামনে আসে।গত ৪ মার্চ ব্যাংক হিসাব তলবের পরদিন সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ জানান তার নিজের দুটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এর মধ্যে একটি সঞ্চয়ী হিসাবে ছিল ৯ হাজার ৯৩০ টাকা। আর সরকারি দায়িত্ব পালনকালে খোলা বেতন হিসাবটিতে বেতন ভাতা ও বিদেশ সফরের টিএ-ডিএসহ মোট ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা জমা এবং ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা উত্তোলন হয়েছে বলে জানান তিনি। দুটি হিসাব মিলিয়ে তার কাছে ছিল ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাবার পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে মোট জমা ছিল ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। মায়ের একটি হিসাবে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা এবং স্ত্রীর একটি হিসাবে ৬১৩ টাকা থাকার কথাও জানান তিনি।এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ জমা পড়ার তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ লেনদেন টেন্ডার বাণিজ্য পদায়ন ও বদলি বাণিজ্য এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ।ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগেও বিপুল অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও পদায়ন বাণিজ্যের অভিযোগও এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি টেন্ডার ও প্রকল্পের কার্যাদেশ থেকে শুরু করে কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন হয়েছে।এছাড়া জেলা প্রশাসক নিয়োগে প্রভাব বিস্তার এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।আড়ও পড়ুন,স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে নাতবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালত বা কোনো তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়নি।আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনকে ঘিরেও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে ৬০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আসিফ মাহমুদের বাবার নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হওয়া এবং পরে সেটি বাতিল করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এদিকে আসিফ মাহমুদের সম্পদ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ এবং দুবাইয়ে সম্পদ থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য পাওয়া যায়নি।সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানও অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো কতটা সত্য। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে কি না এখন সেদিকেই নজর।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি

মায়ের সম্পত্তি না পেয়ে দাদা-দাদিকে মারধর করে ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে মায়ের সম্পত্তির অংশ লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধ দাদা-দাদিকে মারধর করে ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাতির বিরুদ্ধে।রোববার ভোররাতে উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়নের পাহাড়ি জনপদ ধরাটি পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।অভিযোগ উঠেছে ধরাটি গ্রামের গিটিস নকরেকের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা ও তার আত্মীয় অবিনাশ নকরেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গারো সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক রীতিতে পরিবারের সম্পত্তির মালিকানা মায়ের হাতে থাকে। গিটিসের মা শাপলী নকরেক এক ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে প্রায় এক যুগ আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার মেয়েরা বর্তমানে ঢাকায় থাকেন। আর বাড়িতে থাকেন গিটিসের বৃদ্ধ দাদা-দাদি সনেন্দ্র চিরান ও সীতা নকরেক।গিটিস স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছিলেন। তবে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ায় তিনি পরীক্ষায় অংশ নেননি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।অভিযোগ রয়েছে, আড়ও পড়ুন,বিএসএফের গুলিতে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যুকয়েক দিন ধরে গিটিস মায়ের সম্পত্তির অংশ তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য দাদা-দাদিকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। তবে গারো ভূমি আইন অনুযায়ী তিনি মায়ের সম্পত্তির অংশ পাবেন না বলে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়।এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার ভোররাতে গিটিস দাদা-দাদিকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেন। পরে ওই ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।আগুনে ঘরে থাকা ধান-চাল কাপড়চোপড় বাসনকোসনসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।ঘটনার বিষয়ে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে ঘটনার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে বলে জানা গেছে।

মায়ের সম্পত্তি না পেয়ে দাদা-দাদিকে মারধর করে ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ