শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
ঋণের প্রতিশ্রুতি হ্রাস

ঋণের প্রতিশ্রুতি হ্রাস

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবাহে বড় ধরনের স্থবিরতার চিত্র ফুটে উঠেছে চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই–সেপ্টেম্বর) বিদেশি ঋণের হালনাগাদ তথ্যে। আজ সোমবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, আলোচিত তিন মাসে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), চীন, রাশিয়া কিংবা ভারতের মতো প্রধান কোনো আন্তর্জাতিক উন্নয়ন-সহযোগী নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। বড় উন্নয়ন-সহযোগীদের মধ্যে কেবল জাপান মাত্র ৩৫ লাখ ডলারের নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে আগামী ৫ বছরে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের বড় ধরনের বিনিয়োগ চুক্তির প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা এই মন্দা কাটাতে সহায়ক হতে পারে। নতুন প্রতিশ্রুতির গতি শ্লথ হলেও আগের প্রতিশ্রুত ঋণ ছাড় করার ক্ষেত্রে বড় অর্থায়নকারী সংস্থাগুলো এগিয়ে রয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি ১৯ কোটি ৬৫ লাখ ডলার ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। ১৬ কোটি ২১ লাখ ডলার ছাড় করে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে এডিবি। এছাড়া ভারত সাড়ে ১০ কোটি ডলার, রাশিয়া ২ কোটি ডলার এবং চীন দেড় কোটি ডলার ছাড় করেছে। আরও পড়ুন,ই-টিন থাকলেই সবার ৫ হাজার টাকা জরিমানা নয়: এনবিআরসব মিলিয়ে তিন মাসে বিভিন্ন উন্নয়ন-সহযোগী দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে মোট ৬৬ কোটি ডলার অর্থছাড় পেয়েছে বাংলাদেশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের (১১৫ কোটি ডলার) তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে মোট বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে মাত্র ১২৭ কোটি ডলারের। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদের দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া পরিশোধের বোঝা। একই সময়ে প্রাপ্ত অর্থছাড়ের দ্বিগুণেরও বেশি টাকা বাংলাদেশকে শোধ করতে হয়েছে। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে পূর্ব গৃহীত ঋণের আসল ও সুদ বাবদ বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি ডলার। একদিকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতির ঘাটতি ও অর্থছাড় অর্ধেকে নেমে আসা, অন্যদিকে শোধের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশের সার্বিক বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

রুফটপ সোলারে ৫০০ কোটি টাকার ঋণ চুক্তি

দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বা রুফটপ সোলারের প্রসারে সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণ দিতে ৫০০ কোটি টাকার চুক্তি করেছে সরকার ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড ইডকল। এ ঋণের সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ। এর মাধ্যমে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। রোববার ১৮ অক্টোবর ইডকলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও ইডকলের মধ্যে এ ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় ইডকল এবং বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড বিআইএফএফএল যৌথভাবে অর্থায়ন করবে। এ জন্য অর্থ বিভাগ থেকে প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোট এক হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে।আরও পড়ুন,কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি বিক্রিতে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগএর মধ্যে ইডকলের সঙ্গে ৫০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই অর্থ ইডকল তাদের ডিমান্ড এগ্রিগেটরদের মাধ্যমে রুফটপ সোলার স্থাপনে আগ্রহী গ্রাহকদের ঋণ হিসেবে দেবে। সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে এ অর্থায়নের ফলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের প্রাথমিক ব্যয় মেটানো তুলনামূলক সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ গ্রহণ করেছে। এই কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন করে ১০ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বাসাবাড়ি ও বেসরকারি খাতে রুফটপ সোলারের ব্যবহার বাড়ানোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে বিদ্যুতের বিকল্প উৎস ব্যবহারে উৎসাহিত হবে গৃহস্থালি ও শিল্প খাত। তবে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে সহজ ঋণের পাশাপাশি কার্যকর বাস্তবায়ন ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রুফটপ সোলারে ৫০০ কোটি টাকার ঋণ চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ও ফেডের সুদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় বাড়ল সোনার দাম

সরকারগুলোর ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকা এবং চলতি অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেড়েছে। সোমবার স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ৪৯ ডলারে উঠেছে। ডিসেম্বর ডেলিভারির মার্কিন সোনার ফিউচারের দামও দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ১৯৪ দশমিক ৬০ ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন সরকারের ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে সোনার দামের জন্য সহায়ক। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এতে দেশটির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের নজর এখন ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে। এর মাধ্যমে ফেডের পরবর্তী মুদ্রানীতি সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার প্রত্যাশার তুলনায় বেশি কমে যাওয়ার পর অক্টোবরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও কমেছে। সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে।আরও পড়ুন,৬১ ব্যাংকের মধ্যে ২২টি লোকসানে নিট লোকসান ৮ হাজার ৪১৭ কোটি তবে ডিসেম্বরে হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৬৯ শতাংশ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে মার্কিন ডলার সূচক দশমিক ২২ শতাংশ বেড়েছে। ডলারের দাম বাড়লে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। তবে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবে সোনার চাহিদা থাকায় বাজারে এর আকর্ষণ বজায় রয়েছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও সোনার বাজারে প্রভাব ফেলছে। ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনর্দখলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছে। অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। রুপার দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ৭২৫২ ডলার হয়েছে। প্লাটিনাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৩৩ দশমিক ৫০ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৮২ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দেশের বাজারে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকায়। ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা।

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ও ফেডের সুদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় বাড়ল সোনার দাম

ঋণের সুদ কমলেও গতি নেই বিনিয়োগে, ঋণের সুদ কমলেও গতি নেই বিনিয়োগে, বড় সমস্যা আস্থার সংকট

ঋণের সুদের হার কমেছে। কমেছে নীতিসুদও। কিন্তু তাতেও গতি ফিরছে না বেসরকারি খাতের ঋণগ্রহণ ও বিনিয়োগে।ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগস্টে নীতিসুদ ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে নামিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকঋণের ভারিত গড় সুদ ১২ দশমিক ১৬ শতাংশে উঠেছিল—যা অন্তত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছরের জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৮১ শতাংশে।তারপরও বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা বাড়েনি।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে আসে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে—৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। জুলাইয়ে সামান্য বেড়ে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ হলেও ডিসেম্বরের মধ্যে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা এখনও অনেক কম।ব্যবসায়ীদের মতে, বিনিয়োগের পথে এখন শুধু সুদের হার বাধা নয়। বরং বড় সমস্যা আস্থা।ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলছেন, পর্যাপ্ত চাহিদা, স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ ও যুক্তিসংগত মুনাফার নিশ্চয়তা না থাকলে কম সুদেও উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না।গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, উচ্চ পরিচালন ব্যয়, দুর্বল ভোক্তা চাহিদা, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা এবং খেলাপি ঋণের উচ্চ হারও ব্যবসায়িক আস্থায় প্রভাব ফেলছে।আড়ও পড়ুন,নতুন পে-স্কেলে কার বেতন কত? জানুন ২০ গ্রেডের হিসাবঅন্যদিকে ব্যাংকগুলোও খেলাপি ঋণ ও আর্থিক খাতের দুর্বলতার কারণে নতুন ঋণ বিতরণে সতর্ক।অর্থনীতিবিদদের মতে, সুদের হার কমা অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের একমাত্র সূচক নয়। বিনিয়োগ দুর্বল থাকলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।ব্যবসায়ীদের আস্থা ফেরাতে তাই শুধু ঋণের খরচ কমানো নয়—নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, স্থিতিশীল নীতিমালা, বাজারে চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের বিষয়ে পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।অর্থাৎ, ঋণ এখন তুলনামূলক সস্তা হলেও ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন—ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করলে সেই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ কতটা নিরাপদ?এই আস্থার প্রশ্নের উত্তর মিললেই বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

ঋণের সুদ কমলেও গতি নেই বিনিয়োগে, ঋণের সুদ কমলেও গতি নেই বিনিয়োগে, বড় সমস্যা আস্থার সংকট

খেলাপি ঋণ আদায় ও ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে রূপালী ব্যাংকের জোর

দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সিএমএসএমইসহ বিভিন্ন খাতে অন্তত ২০ শতাংশ ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসি। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার এবং ক্যাশলেস লেনদেন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।বরিশালে অনুষ্ঠিত রূপালী ব্যাংকের বিভাগীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।শুক্রবার বরিশালের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এ সভায় ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের আওতাধীন শাখাগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. মইনুদ্দিন মাসুদ। সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিভাগীয় প্রধান ও মহাব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।পর্যালোচনা সভায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সিএমএসএমইসহ বিভিন্ন খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে হবে। এ জন্য অন্তত ২০ শতাংশ ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার, আমানত সংগ্রহ এবং ব্যাংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।আড়ও পড়ুন,নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পূবালী ব্যাংকের নতুন বাসক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মাণে রূপালী ক্যাশ, রূপালী ই-ব্যাংকিং এবং বাংলা কিউআর ব্যবহার করে লেনদেন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।বিশেষ অতিথি ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ কমাতে সঠিকভাবে ক্রেডিট রেটিং সম্পন্ন, সিবিএস ডাটাবেজে যোগ্য জামানতের সঠিক মূল্য ইনপুট এবং যথাযথ নিয়মে সিআইবি রিপোর্ট করার নির্দেশনা দেন।সভাপতির বক্তব্যে বরিশাল বিভাগের ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে সুদবিহীন ও স্বল্প সুদবাহী আমানত সংগ্রহ, হিসাব খোলা, বাংলা কিউআর অনবোর্ডিং, বৈদেশিক রেমিট্যান্স আহরণ এবং শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ে অগ্রগতির কথা তুলে ধরা হয়।বছরের বাকি সময়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে সার্বিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সাফল্য অর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন কর্মকর্তারা।সভায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জোনের জোনাল ম্যানেজার, বিভাগীয় ও জোনাল কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শাখা ও উপশাখার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

খেলাপি ঋণ আদায় ও ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে রূপালী ব্যাংকের জোর

সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ছাড়াল সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারের পুঞ্জীভূত অভ্যন্তরীণ ঋণ সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড সীমা অতিক্রম করেছে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা।বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ শেষে সরকারের পুঞ্জীভূত অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা।অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার মোট ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।তবে এই সময়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার।ফলে অর্থবছর শেষে সরকারের পুঞ্জীভূত অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এই ঋণের পরিমাণ সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকার সীমা ছাড়িয়েছে।বিশ্লেষকদের কাছে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আড়ও পড়ুন,ঈদে আসছে নতুন টাকা, থাকছে না কোনো ব্যক্তির ছবি: গভর্নরকারণ সরকারি ব্যয় ও বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে সরকারের সুদ পরিশোধের চাপও বাড়তে পারে।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে ব্যাংক ব্যবস্থা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সঞ্চয়পত্র—এই অভ্যন্তরীণ উৎসগুলো থেকেই গত অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছে সরকার।সব মিলিয়ে নতুন অর্থবছরের শুরুতেই সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। এক বছরে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা ঋণ বৃদ্ধির এই চিত্র দেশের সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ছাড়াল সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড