শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
জ্বালানি সংকট শিগগিরই কেটে যাবে: জ্বালানি মন্ত্রী

জ্বালানি সংকট শিগগিরই কেটে যাবে: জ্বালানি মন্ত্রী

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক সংকট, জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হওয়া এবং ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে দেশে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, শিগগিরই এ সংকট কেটে যাবে। আগামীতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে আর বড় ধরনের সমস্যা থাকবে না।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রধান অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যে সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে সরকারের কিছুটা সময় লেগেছে। এর মধ্যে জ্বালানি কেনা হলেও ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে তা দেশে আনা সম্ভব হয়নি।তিনি বলেন, সব ধরনের দুর্যোগ কাটিয়ে এখন জ্বালানি সরবরাহের লাইন স্বাভাবিক করা হয়েছে। বর্তমানে সঠিকভাবে জ্বালানি দেশে আসছে এবং সরবরাহের শিডিউলও ঠিক করা হয়েছে।জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক বিঘ্নের কারণে জনগণকে যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে জনগণের কষ্ট লাঘবে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।আড়ও পড়ুন,সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর নিয়ে নতুন তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের আস্থা নিয়ে সরকার দায়িত্ব পেয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন অনুযায়ী বেশি দাম দিয়েও গ্যাস আমদানি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।তিনি বলেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সংকট তৈরি করেনি। জনগণ যেন ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ভোগান্তিতে না পড়ে, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বিকল্প উৎস নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে নতুন কোনো দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংকট তৈরি না হলে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এবার যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২৩ পয়সা বাড়িয়ে ৩ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২০ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৭২ পয়সা করা হয়েছে।বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর বৈঠক শেষে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ভাড়া বৃদ্ধির এ তথ্য জানান।মন্ত্রী বলেন জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও ব্যবস্থাপনা ব্যয়সহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নৌযান মালিকরা ১৫ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন। তবে যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।এছাড়া লঞ্চের সর্বনিম্ন ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। আগে সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল ৩২ টাকা। নতুন সিদ্ধান্তে তা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন ভাড়া বৃদ্ধি কাম্য নয়। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই সর্বনিম্ন পর্যায়ে ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।আড়ও পড়ুন,সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে গণমাধ্যমের সমস্যা কমবে কাদের গনিতিনি আরও বলেন তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে ভাড়া বৃদ্ধির নামে নৈরাজ্য কিংবা স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ দেওয়া হবে না। এর আগে মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানান মালিকরা। এ জন্য একজন যাত্রীর যাতায়াতে প্রতি কিলোমিটারে ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেন তারা।এদিকে একই দিন বাস ও মিনিবাসের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। বুধবার সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রতি কিলোমিটারে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়ানোর কথা জানায়।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধি

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সমালোচনা সাদিক কায়েমের

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম। তিনি এই মূল্যবৃদ্ধিকে গণমানুষের ওপর সরাসরি জুলুম বলে মন্তব্য করেছেন।সোমবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।সাদিক কায়েমের দাবি, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে কমছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবারই প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় দুই ডলার কমেছে।এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ ভোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কার্যকর পরামর্শ বা গণশুনানি ছাড়াই দেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।ডাকসু ভিপি বলেন, জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে তেলের দাম বাড়লে পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।নিজের বক্তব্যে তিনি সরকারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। আড়ও পড়ুন,ফার্মগেটে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলতাঁর দাবি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কারণে স্বল্প ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। এর পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সাদিক কায়েম আরও বলেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিএনপি সরকার মানুষের জন্য একের পর এক দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মনে করেন। জ্বালানি বিদ্যুৎ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে সাধারণ মানুষ কষ্টে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।তবে এগুলো সাদিক কায়েমের রাজনৈতিক বক্তব্য ও সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ। জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং সীমান্তপথে পাচারের ঝুঁকিসহ বিভিন্ন কারণের কথা জানিয়েছে।ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যা এবং এর সমালোচকদের বক্তব্য—দুই দিকই সামনে এসেছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সমালোচনা সাদিক কায়েমের

জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বাড়লে সামনে নিত্যপণ্যের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।সোমবার রাজধানীর খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে এখনো অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দামে সরাসরি কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে সেই অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।এরই মধ্যে গণপরিবহনে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। রাজধানীর চিটাগং রোড সাইনবোর্ড যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ থেকে চলাচলকারী বাস ও লেগুনায় রুটভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটেও ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।আড়ও পড়ুন,৭৫ বছর বয়সে মারা গেলেন রানি মুখার্জির মাসায়েদাবাদ থেকে খুলনা বরিশাল শরীয়তপুর ও মাদারীপুরগামী বাসে ৫০ টাকা পর্যন্ত এবং চট্টগ্রামগামী লোকাল বাসে ১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। পাশাপাশি রাইডশেয়ারিং এবং পণ্য পরিবহনেও বাড়তি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও জাহাজভাড়া বেড়েছে। তাই মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প ছিল না।প্রতিমন্ত্রী জানান গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্ববাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয় না করায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। শুধু ডিজেলেই প্রতি লিটারে এখনো ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে জানান তিনি।অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ। সংস্থাটির সুপারিশ অনুযায়ী দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা এবং সিটি সার্ভিসে ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।তবে বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং মিনিবাসে ৮ টাকা অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই নতুন ভাড়া কার্যকর হবে। ফলে প্রজ্ঞাপন জারির আগ পর্যন্ত প্রস্তাবিত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে: নাহিদ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এ দাবি জানান তিনি।নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকারের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার খেসারত দেশের ১৮ কোটি মানুষকে দিতে হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও সৃজনশীল বিকল্প খোঁজার পরিবর্তে সরাসরি জনগণের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তার দাবি, ক্ষমতায় আসার পর কয়েক মাসের মধ্যেই তৃতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয়সহ সরকারের বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরার কথা উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম।তিনি প্রশ্ন তোলেন, আড়ও পড়ুন,জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকায় জামায়াতের বিক্ষোভজ্বালানি তেল আমদানিতে সরকার বিভিন্ন ধরনের কর ও শুল্ক আদায় করছে। বর্তমান সংকটে নাগরিকদের ওপর চাপ কমাতে অন্তত সাময়িকভাবে এসব কর ও শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলো না কেন।নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সরকার বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করতে চায়। অথচ নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন কেন এত জরুরি হয়ে পড়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, জনগণের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপানোর পরিবর্তে রাষ্ট্রের অন্যান্য ব্যয় পুনর্বিন্যাস করে সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে নাহিদ ইসলাম বলেন, অবিলম্বে এই মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের ওপর নতুন বোঝা না চাপিয়ে বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে: নাহিদ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল বাড়বে কি মূল্যস্ফীতির চাপ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শুধু গাড়ির ভাড়া কিংবা যাতায়াত খরচই বাড়ে না। পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ধাপেই বাড়ে খরচ। যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।আবারও ডিজেল পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রথমবারের মতো পেট্রল ও অকটেনের দাম ছাড়িয়েছে দেড়শ টাকা। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষ।২০২২ সালের আগস্টের পর জ্বালানি তেলের দাম একবারে এতটা বাড়েনি।ওই বছরের ৬ আগস্ট ডিজেল কেরোসিন পেট্রল ও অকটেনের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল। পরদিন থেকেই কার্যকর হয় নতুন দাম।তখন ডিজেলের দাম ৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয় ১১৪ টাকা। পেট্রলের দাম ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ১৩০ টাকা। আর অকটেনের দাম ৮৯ টাকা থেকে বেড়ে হয় ১৩৫ টাকা।এর পরের মাসেই মূল্যস্ফীতির বড় ধরনের প্রভাব দেখা যায়।২০২২ সালের জুলাইয়ে যেখানে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ সেখানে আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৫২ শতাংশে।জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় পণ্য পরিবহন ও যাত্রী পরিবহনের খরচ। এর প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও।এরপর বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তন হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটসহ নানা কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও দীর্ঘ হয়েছে।২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি উঠেছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।এবার নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সামনে কী হবে মূল্যস্ফীতির?অর্থনীতিবিদদের মতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়বে পরিবহন ব্যয়ে। আড়ও পড়ুন,https://crimeexpress.net/post/6129/এরপর বাড়তে পারে পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের খরচ। আর শেষ পর্যন্ত এর চাপ গিয়ে পড়তে পারে ভোক্তার ওপর।বিশেষ করে যাঁদের আয় নির্দিষ্ট তাঁদের ওপর এই চাপ বেশি অনুভূত হতে পারে।জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে। তবে এই সুযোগে যেন অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা তৈরি না হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে।ভয়েসওভার:জাহিদ হোসেনের মতে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে দেশে দাম না বাড়ালে সরকারের ওপর ভর্তুকির চাপ বাড়ত।তবে তাঁর মতে মাসের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের যে নীতি রয়েছে এবার তা অনুসরণ করা হয়নি। মাসের শেষভাগে হঠাৎ দাম বাড়ানো হয়েছে।অন্যদিকে মানুষের হাতে অর্থের প্রবাহ বাড়লেও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কার্যকর হলে বাজারে অর্থের প্রবাহ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ঋণের সুদ কমায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়লেও মূল্যস্ফীতির ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যবৃদ্ধির পর সাধারণ মানুষের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—শুধু জ্বালানি নয় আগামী দিনে আর কোন কোন পণ্যের দাম বাড়বে এবং সেই বাড়তি খরচ সামলাবেন কীভাবে?অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল বাড়বে কি মূল্যস্ফীতির চাপ

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ বেড়ে যাওয়ায় দেশে ডিজেলসহ চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার।রোববার ২০ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হবে ১৩৫ টাকায়। অকটেনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৫ টাকা। পেট্রোলের নতুন দাম ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন বিক্রি হবে ১৫৫ টাকা লিটারে।এর আগে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা অকটেন ১৪৫ টাকা পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল।আড়ও পড়ুন,আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুন নিহত ১ আহত ২৫অর্থাৎ আগের দামের তুলনায় চার ধরনের জ্বালানি তেলের প্রতিটির দামই লিটারে ২০ টাকা করে বেড়েছে।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন বা ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে দেশে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল