শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
স্বর্ণের দাম কমল, ভরিতে ছাড় ২১৫৮ টাকা

স্বর্ণের দাম কমল, ভরিতে ছাড় ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। নতুন এ দাম সোমবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।সোমবার বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের দাম ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। এর আগে এ মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি ভরিতে দাম কমেছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকায়।আড়ও পড়ুন,৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য এনবিআরের আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমিয়েছে বাজুস। নতুন মূল্য তালিকায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৯১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৭৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুসের নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার ফলে দেশের জুয়েলারি বাজারে স্বর্ণ ও রুপার বিক্রয়মূল্যে পরিবর্তন এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, স্থানীয় বাজারের চাহিদা-সরবরাহ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সংগঠনটি নিয়মিতভাবে মূল্য পুনর্নির্ধারণ করে থাকে।

ভারতীয় রুপির বিপরীতে দুই বছরে ১১.৬ শতাংশ শক্তিশালী টাকা

ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। বিনিময় হারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা দিয়ে পাওয়া যেত প্রায় শূন্য দশমিক ৭০ ভারতীয় রুপি। ২০২৫ সালের একই দিনে তা বেড়ে দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ৭২ রুপিতে। আর চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকা সমান হয়েছে প্রায় শূন্য দশমিক ৭৮ ভারতীয় রুপি।অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। আর দুই বছরের ব্যবধানে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।বিপরীত হিসাবেও টাকার শক্তিশালী অবস্থান স্পষ্ট। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১ টাকা ২৮ পয়সা। এক বছর আগে যেখানে এক রুপি কিনতে প্রয়োজন হতো প্রায় ১ টাকা ৩৮ পয়সা। অর্থাৎ এক ভারতীয় রুপি কিনতে এখন আগের তুলনায় প্রায় ৯ দশমিক ৭২ পয়সা কম টাকা প্রয়োজন হচ্ছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১ টাকা ২৭ দশমিক ৮৯ পয়সা থেকে ১ টাকা ২৭ দশমিক ৯৬ পয়সা। অর্থাৎ এক টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে প্রায় শূন্য দশমিক ৭৮১ থেকে শূন্য দশমিক ৭৮২ ভারতীয় রুপি।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ-ভারতের বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কিছুটা কমতে পারে।আড়ও পড়ুন,৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকায় মসুর ডাল কিনছে টিসিবিতার মতে একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য বা সেবা কিনতে যদি অন্যান্য খরচ অপরিবর্তিত থাকে তাহলে শক্তিশালী টাকার কারণে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের তুলনামূলক কম টাকা ব্যয় করতে হবে। কাঁচামাল শিল্প উপকরণ যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য আমদানিকারকরাও এতে সুবিধা পেতে পারেন।শুধু ব্যবসা নয় ভারতের ভ্রমণকারীরাও এর সুফল পেতে পারেন। রুপির বিপরীতে টাকা শক্তিশালী থাকায় আবাসন খাবার যাতায়াতসহ স্থানীয় খরচের টাকায় হিসাব করা মূল্য কিছুটা কমতে পারে।তবে বিনিময় হার কমলেই বাজারে পণ্যের দাম একই অনুপাতে কমবে এমন নিশ্চয়তা নেই। আমদানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য পরিবহন ব্যয় শুল্ক কর এবং ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তসহ আরও বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত দামের ওপর প্রভাব ফেলে।বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও বিনিময় হারের গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।

ভারতীয় রুপির বিপরীতে দুই বছরে ১১.৬ শতাংশ শক্তিশালী টাকা

৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকায় মসুর ডাল কিনছে টিসিবি

নিম্ন আয়ের ফ্যামিলি কার্ডধারীদের ভর্তুকি মূল্যে মসুর ডাল দিতে আরও ১০ হাজার মেট্রিক টন ডাল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার।বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত প্রস্তাব অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এই ডাল কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মসুর ডাল সরবরাহের জন্য আহ্বান করা উন্মুক্ত দরপত্রে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়নের পর সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য দরদাতা হিসেবে কাজ পেয়েছে খুলনার জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড। টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম পড়বে ৭৬ টাকা ৮৯ পয়সা।আড়ও পড়ুন,অনাপত্তি সনদ বাতিলের পর ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির জন্য মোট ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এরই মধ্যে ১৭ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন ডাল সংগ্রহ করা হয়েছে।নতুন করে আরও ১০ হাজার মেট্রিক টন ডাল কেনা হলে টিসিবির মজুত বাড়বে। ফলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে ডাল বিতরণে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। সরকারের নিয়মিত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে টিসিবি ফ্যামিলি কার্ডধারীদের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ভর্তুকি মূল্যে দিয়ে থাকে। সেই কর্মসূচিতে মসুর ডালের চাহিদা পূরণে নতুন এই ক্রয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের অনুমোদনের পর স্থানীয় সরবরাহকারীর মাধ্যমে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ডাল সংগ্রহ করা হবে। এরপর টিসিবির গুদামে মজুত করে প্রয়োজন অনুযায়ী তা ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকায় মসুর ডাল কিনছে টিসিবি

নতুন টাকা ছাপানো বন্ধের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং এক হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করার কথা জানিয়েছেন নোটিশদাতা।নোটিশে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়া অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহ করা হলে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে বলে নোটিশে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুনের দাবি, অর্থনীতিতে মুদ্রার সরবরাহ ও পণ্য সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। তাই স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।নোটিশে মূল্যস্ফীতির বিষয়টিকে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে থাকা জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে।আড়ও পড়ুন,বাংলাদেশে নতুন স্মার্টফোন আনল টেকনোনোটিশদাতার বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক চাপ মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।এ ছাড়া এক হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে। নোটিশদাতার যুক্তি, দৈনন্দিন লেনদেনে সাধারণ মানুষের জন্য উচ্চ মূল্যমানের এই নোটের প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম হলেও বড় অঙ্কের নগদ অর্থ সংরক্ষণে এ ধরনের নোট ব্যবহার করা হতে পারে।তাঁর দাবি, বড় মূল্যমানের নোটের মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে বিপুল নগদ অর্থ রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং এর ফলে ছায়া অর্থনীতির বিস্তার ঘটতে পারে।এ ক্ষেত্রে ভারতের দুই হাজার রুপির নোট প্রত্যাহারের উদাহরণও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ২০২৩ সালে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক জানিয়েছিল, ওই নোট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ছিল ‘ক্লিন নোট পলিসি’র অংশ। প্রত্যাহারের ঘোষণা হলেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দুই হাজার রুপির নোট বৈধ মুদ্রা হিসেবে বহাল ছিল এবং জনগণকে ব্যাংকে জমা বা অন্য মূল্যমানের নোটে বিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। ১৫ দিনের মধ্যে দাবি অনুযায়ী ব্যবস্থা না নেওয়া হলে হাইকোর্টে রিট করার কথা জানিয়েছেন আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন।

নতুন টাকা ছাপানো বন্ধের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ

ডিজেলে প্রতিদিন ১০৯ কোটি টাকা লোকসান সরকারের

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ডিজেল বিক্রিতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারি হিসাবে আগের দরে প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান হচ্ছিল। এতে শুধু ডিজেল খাতেই প্রতিদিন প্রায় ১০৯ কোটি টাকা লোকসান গুনছিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসি।মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।সরকারের হিসাবে, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারত। এর আগে চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখায় বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এই লোকসান কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি কমাতে সরকার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।আড়ও পড়ুন,দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দামনতুন দরে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। অকটেনের দাম ১৪৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬৫ টাকা। পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।সরকার বলছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন কম থাকায় সীমান্তপথে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। কলকাতায় ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ১৩৪ টাকা ৭৬ পয়সা এবং পাকিস্তানে প্রায় ১৮৫ টাকা ৪৮ পয়সা বলে সরকারি তুলনায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরও ডিজেল বিক্রিতে সরকারের ভর্তুকি বা ঘাটতি পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। কর্মকর্তাদের হিসাবে নতুন দামেও প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে। 

ডিজেলে প্রতিদিন ১০৯ কোটি টাকা লোকসান সরকারের

রেমিট্যান্স ও রিজার্ভে স্বস্তি, শক্তিশালী হচ্ছে টাকা

সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের টাকা। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং রিজার্ভ বাড়ায় টাকার ওপর চাপ কমেছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তৈরি হয়েছে তুলনামূলক স্থিতিশীল পরিস্থিতি।একসময় যে ডলারের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছিল, সেই প্রবণতায় এখন পরিবর্তনের ইঙ্গিত।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে কমে ১২৩ টাকায় নেমেছে।অর্থাৎ এই সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ।আর ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে টাকার মূল্য বেড়েছে শূন্য দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ।তথ্যচিত্র: ২০২১ সালে ডলারের দাম — ৮৫ টাকা ৮০ পয়সাসাম্প্রতিক সময়ে — ১২৩ টাকা৩০ আগস্ট — ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা১৭ সেপ্টেম্বর — ১২৩ টাকাআড়ও পড়ুন,বাংলাদেশের আকাশসীমা থেকে বছরে ৮০৫ কোটি টাকা আয়টাকার সাম্প্রতিক শক্তিশালী অবস্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে প্রবাসী আয়।চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ৭ দশমিক ৭০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ।একই সঙ্গে বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও।গত ৮ সেপ্টেম্বর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যা ছিল ২৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং বাজারে নিবিড় নজরদারির ফলে বৈদেশিক খাতের অবস্থার উন্নতি হয়েছে।টাকা শক্তিশালী হলে জ্বালানি, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির মতো আমদানি পণ্যের জন্য স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমতে পারে।এতে আমদানিকারকদের ব্যয় ব্যবস্থাপনা সহজ হওয়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হয়।তবে টাকার এই শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ানো, আমদানি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেমিট্যান্স ও রিজার্ভে স্বস্তি, শক্তিশালী হচ্ছে টাকা

সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ছাড়াল সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারের পুঞ্জীভূত অভ্যন্তরীণ ঋণ সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড সীমা অতিক্রম করেছে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা।বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ শেষে সরকারের পুঞ্জীভূত অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা।অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার মোট ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।তবে এই সময়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার।ফলে অর্থবছর শেষে সরকারের পুঞ্জীভূত অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এই ঋণের পরিমাণ সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকার সীমা ছাড়িয়েছে।বিশ্লেষকদের কাছে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আড়ও পড়ুন,ঈদে আসছে নতুন টাকা, থাকছে না কোনো ব্যক্তির ছবি: গভর্নরকারণ সরকারি ব্যয় ও বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে সরকারের সুদ পরিশোধের চাপও বাড়তে পারে।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে ব্যাংক ব্যবস্থা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সঞ্চয়পত্র—এই অভ্যন্তরীণ উৎসগুলো থেকেই গত অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছে সরকার।সব মিলিয়ে নতুন অর্থবছরের শুরুতেই সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। এক বছরে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা ঋণ বৃদ্ধির এই চিত্র দেশের সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ছাড়াল সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড