আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ডিজেল বিক্রিতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারি হিসাবে আগের দরে প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান হচ্ছিল। এতে শুধু ডিজেল খাতেই প্রতিদিন প্রায় ১০৯ কোটি টাকা লোকসান গুনছিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসি।মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।সরকারের হিসাবে, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারত। এর আগে চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখায় বিপিসির প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এই লোকসান কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি কমাতে সরকার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
আড়ও পড়ুন,দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম
নতুন দরে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। অকটেনের দাম ১৪৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬৫ টাকা। পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।সরকার বলছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন কম থাকায় সীমান্তপথে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। কলকাতায় ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ১৩৪ টাকা ৭৬ পয়সা এবং পাকিস্তানে প্রায় ১৮৫ টাকা ৪৮ পয়সা বলে সরকারি তুলনায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরও ডিজেল বিক্রিতে সরকারের ভর্তুকি বা ঘাটতি পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। কর্মকর্তাদের হিসাবে নতুন দামেও প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে।
মতামত