রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
অপ্রতিম হত্যা: ১২ ঘণ্টায় চার গ্রেপ্তার, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাস

অপ্রতিম হত্যা: ১২ ঘণ্টায় চার গ্রেপ্তার, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাস

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ১২ ঘণ্টার মধ্যে চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তিনজন এবং পরে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। তবে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান।মন্ত্রী বলেন, অপ্রতিমের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয়, ওঠাবসা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। তাদের বয়স নিহত অপ্রতিমের চেয়ে আনুমানিক ৫ থেকে ১০ বছর বেশি বলে জানান তিনি।হত্যাকাণ্ডের সময় অপ্রতিমের কাছে থাকা মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।আড়ও পড়ুন,হিমবাহ গলে বাড়ছে বাংলাদেশের বন্যার ঝুঁকি এসব আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাটির পারিপার্শ্বিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত দেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি পল্লবীতে শিশু হত্যার একটি মামলার উদাহরণ টেনে বলেন, একইভাবে এ মামলার তদন্তও দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।অপরাধের পেছনে মাদক ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও মোটিভেশনাল কার্যক্রম বাড়াতে হবে।একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি বিচার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপ এবং সংগৃহীত আলামতের ফরেনসিক প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

কোটালীপাড়ায় সকালে দুই মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পৃথক ঘটনায় এক কলেজছাত্রী ও এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।শনিবার সকালে উপজেলার উনিশিয়া গ্রামের বাড়ির পেছন থেকে শরিফা ইসলাম নামে এক কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সকালে পৌর এলাকার একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় মিরাজুল ইসলাম খলিফা নামে এক যুবকের মরদেহ।দুই ঘটনায়ই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করছে পুলিশ।গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার উনিশিয়া গ্রাম।শনিবার সকালে বাড়ির পেছনে একটি গাছ থেকে ২০ বছর বয়সী কলেজছাত্রী শরিফা ইসলামের মরদেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।পরে তাঁকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।শরিফা কোটালীপাড়া আদর্শ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের স্নাতক সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।পরিবারের ভাষ্য, চলতি মাসের ২৮ তারিখ থেকে তাঁর দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কলেজের বাইরের দৃশ্য, গ্রামের রাস্তা ও পুলিশের কার্যক্রম।পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শরিফার পড়ার টেবিলে মা-বাবার উদ্দেশে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। সেখানে পরীক্ষা ও ফলাফল নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ ছিল বলে জানিয়েছে পরিবার।এ ঘটনায় কোটালীপাড়া থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। আড়ও পড়ুন,দেশে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, ২৪ ঘণ্টায় ২ জনের মৃত্যুমৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে।অন্যদিকে একই উপজেলার পৌর এলাকার একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২৪ বছর বয়সী মিরাজুল ইসলাম খলিফার মরদেহ।পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, শুক্রবার দুপুরে মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রাতে আর ফেরেননি মিরাজুল।শনিবার সকালে বাড়ির পাশের পুকুরে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মিরাজুল মাদকাসক্ত ছিলেন এবং এ কারণে পারিবারিকভাবে নানা সমস্যাও চলছিল।প্রায় এক বছর আগে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। তাঁদের দুই সন্তান বর্তমানে মায়ের কাছে রয়েছে।তবে পুকুরে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।কোটালীপাড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, মিরাজুল ইসলামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।অন্যদিকে শরিফা ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। দুই ঘটনাই তদন্ত করছে পুলিশ।

কোটালীপাড়ায় সকালে দুই মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ