রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
রিংয়ের দামে অনিয়মের অভিযোগ, রোগীদের নথি সংগ্রহ করল দুদক

রিংয়ের দামে অনিয়মের অভিযোগ, রোগীদের নথি সংগ্রহ করল দুদক

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্ট বিক্রি এবং রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।এ ছাড়া সেবা দিতে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও রোগী হয়রানির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটিতে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদক।রোববার দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।দুদক জানিয়েছে, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নির্ধারিত নতুন মূল্য কার্যকর না করে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে হার্টের রিং বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ পাওয়া যায়।এর সঙ্গে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সেবা প্রদানে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগও ছিল।অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে।অভিযানকালে সম্প্রতি হার্টের রিং পরানো হয়েছে—এমন কয়েকজন রোগীর ক্ষেত্রে নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী লেনদেন হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়।এ জন্য দৈবচয়ন ভিত্তিতে রোগীদের লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে এনফোর্সমেন্ট টিম।আড়ও পড়ুন,অপ্রতিম হত্যা: ১২ ঘণ্টায় চার গ্রেপ্তার, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাসপাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি থাকা হার্টের রিং পরানো রোগীদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হয়।তাদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা হয়রানির ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক।তবে অভিযানেই অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন।অভিযানে সংগৃহীত তথ্য, রোগীদের বক্তব্য এবং রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করা হবে।এরপর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনের কাছে দাখিল করবে এনফোর্সমেন্ট টিম।সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই অভিযোগের সত্যতা এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।হার্টের রিংয়ের মূল্য ও রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়টি তাই এখন দুদকের যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে রয়েছে।

আসিফ মাহমুদের সম্পদের খোঁজে দুদক

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং দেশ-বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদক।বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট—বিএফআইইউর কাছে পাঠানো চিঠিতে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশে থাকা সম্পদ, বিনিয়োগ ও অর্থ স্থানান্তরের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের সই করা চিঠিতে আসিফ মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা চালু, সুপ্ত ও বন্ধ ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণসংক্রান্ত নথিপত্রের তথ্যও চেয়েছে দুদক।আসিফ মাহমুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির আর্থিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।বিদেশে সম্পদ, বিনিয়োগ, ব্যাংক হিসাব ও অর্থ স্থানান্তরের তথ্য পেতে বিএফআইইউর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে।দুদকের অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং বিদেশে শেল কোম্পানি গঠনের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।অভিযোগে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে সম্পদ ও অর্থ স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে।আড়ও পড়ুন,নিরাপদ অভিবাসনে জালিয়াতি বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার পাঁচ দেশে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও রয়েছে।এর মধ্যে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনার অভিযোগও রয়েছে।এর আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।পরে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসক পদায়ন, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিভিন্ন নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় আসে।অন্যদিকে, দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন তিনি।দুদক জানিয়েছে, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাইয়ে আমলযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

আসিফ মাহমুদের সম্পদের খোঁজে দুদক