বিশ্ববাজারে সোনার দামে পতন হয়েছে। তেলের দাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কাও সোনার দামে চাপ তৈরি করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৬১ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমেছে। এ সময় ১৭ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে লেনদেন হচ্ছিল সোনা। ডিসেম্বর সরবরাহের মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দামও ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৯৬ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জলবায়ু ও পণ্যবাজারবিষয়ক অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইনের মতে, ইরান যুদ্ধের দ্রুত ও চূড়ান্ত সমাধানের বিষয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। ফলে তেলের দাম এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাব সোনার বাজারেও পড়তে পারে এবং দাম আরও কমার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড বর্তমানে প্রায় দুই দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। সোনা কোনো সুদ দেয় না। ফলে বন্ডের ইয়িল্ড বেড়ে গেলে সোনায় বিনিয়োগের সুযোগ ব্যয় বাড়ে। এতে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ সোনার পরিবর্তে সুদযুক্ত সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
আড়ও পড়ুন,হজ নিবন্ধনের অর্থ জমা নিতে শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.১ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৭৪৮ দশমিক ০৩ ডলার। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৬১ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম সোনার দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা।
দেশের বাজারে রুপার দামও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপা ৪৪০ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪২৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৩৬৫ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম রুপা বিক্রি হচ্ছে ২৭৫ টাকায়।
মতামত