শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দামও নির্ধারণ করল বাজুস

২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দামও নির্ধারণ করল বাজুস

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভ্যাটসহ প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস জানিয়েছে, শুক্রবার ৯ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। বৃহস্পতিবার এই দাম ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা। অর্থাৎ প্রতি ভরিতে দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা। আরও পড়ুন,বিশ্বায়নের নতুন বাস্তবতা বিদেশি নির্ভরতা কমানোর প্রতিযোগিতায় দেশগুলো১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১২২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৬২ বার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সে বছর ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। সোনার দামে এই নতুন সমন্বয়ের ফলে ক্রেতাদের এখন আগের তুলনায় বেশি অর্থ খরচ করতে হবে। বিশেষ করে বিয়ে ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য স্বর্ণালংকার কেনার পরিকল্পনা করছেন, এমন ক্রেতাদের ওপর বাড়তি দামের প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্ববাজারে কমেছে সোনার দাম

বিশ্ববাজারে সোনার দামে পতন হয়েছে। তেলের দাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কাও সোনার দামে চাপ তৈরি করেছে।রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর স্পট গোল্ডের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৬১ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমেছে। এ সময় ১৭ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে লেনদেন হচ্ছিল সোনা। ডিসেম্বর সরবরাহের মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দামও ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৯৬ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জলবায়ু ও পণ্যবাজারবিষয়ক অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইনের মতে, ইরান যুদ্ধের দ্রুত ও চূড়ান্ত সমাধানের বিষয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। ফলে তেলের দাম এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাব সোনার বাজারেও পড়তে পারে এবং দাম আরও কমার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড বর্তমানে প্রায় দুই দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। সোনা কোনো সুদ দেয় না। ফলে বন্ডের ইয়িল্ড বেড়ে গেলে সোনায় বিনিয়োগের সুযোগ ব্যয় বাড়ে। এতে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ সোনার পরিবর্তে সুদযুক্ত সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারেন।আড়ও পড়ুন,হজ নিবন্ধনের অর্থ জমা নিতে শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলাএদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.১ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৭৪৮ দশমিক ০৩ ডলার। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৬১ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম সোনার দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা।দেশের বাজারে রুপার দামও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপা ৪৪০ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪২৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৩৬৫ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম রুপা বিক্রি হচ্ছে ২৭৫ টাকায়।

বিশ্ববাজারে কমেছে সোনার দাম

সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে চলতি সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। আর এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে। সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনায় সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমেছে।সোমবার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৭১ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে ডিসেম্বরে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম কমেছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩১১ দশমিক ২০ ডলার।ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনোভোর মতে মূল্যস্ফীতির সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা অনেকটাই বেড়েছে। এর সঙ্গে তেলের দাম নতুন করে বাড়ায় মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য বলছে চলতি সপ্তাহের নীতি নির্ধারণী বৈঠকে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা এখন প্রায় ৮৯ শতাংশ। অথচ গত সপ্তাহে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে এই সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৬৭ শতাংশ।গোল্ডম্যান স্যাকস ও এইচএসবিসির মতো আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোও ধারণা করছে আগামী মঙ্গল ও বুধবারের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াতে পারে।শুধু সোনা নয় অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দেখা গেছে দরপতন।আড়ও পড়ুন,পাচার হওয়া সম্পদে কর আদায়ে ৭ সদস্যের কমিটি রুপার দাম কমেছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। প্ল্যাটিনামের দাম কমেছে ২ শতাংশ। আর প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ।এদিকে বাংলাদেশের বাজারে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম বর্তমানে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।আন্তর্জাতিক বাজারে বড় দরপতনের পর বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে এর কী প্রভাব পড়ে এখন সেদিকেই নজর রাখছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।

সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন