শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

দেশভাগের পর প্রথমবার ব্রহ্মপুত্র নৌপথে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আসছে


ক্রাইম এক্সপ্রেস
ক্রাইম এক্সপ্রেস

দেশভাগের পর প্রথমবার ব্রহ্মপুত্র নৌপথে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আসছে
ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আসছে

দেশভাগের পর প্রথমবারের মতো ব্রহ্মপুত্রের অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন হতে যাচ্ছে। আসামের ডিব্রুগড়ের বগীবিল থেকে ব্রহ্মপুত্র নদপথে বাংলাদেশে পাঠানো হবে নামরূপের আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের (এপিএল) উৎপাদিত মিথানল।

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর ডিব্রুগড় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ ব্যবহার করে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহন। ব্রিটিশ আমলে ব্রহ্মপুত্রকে কেন্দ্র করে ডিব্রুগড় গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজ এই নৌপথ ব্যবহার করে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি বিদেশের সঙ্গেও বাণিজ্য পরিচালনা করত। স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে সেই নদীপথভিত্তিক বাণিজ্য কমে যায়।কয়েক দশক পর নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রকেন্দ্রিক পুরোনো বাণিজ্যিক যোগাযোগ আবারও সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহনের জন্য বগীবিল ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট টার্মিনাল প্রায় প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুবিধার্থে সেখানে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা, আধুনিক জেটি ও গুদামঘর তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি নজরদারি ও কারিগরি সহায়তার জন্য একটি লাইটহাউস এবং ‘রিজিওনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ তৈরির কাজও চলছে।এপিএলের মিথানল পরিবহনের জন্য দুটি বিশেষ জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি জাহাজে থাকবে ২৭টি কনটেইনার। প্রতিটি কনটেইনারে ২০ টন করে মিথানল বহন করা হবে। ফলে একটি জাহাজে ৫৪০ টন এবং দুটি জাহাজে মোট ১ হাজার ৮০ টন মিথানল পরিবহন করা সম্ভব হবে।বগীবিল থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৭৮৩ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে জাহাজগুলোর আনুমানিক সাত দিন সময় লাগবে।

আড়ও পড়ুন,ভারতে বাংলাদেশি পাটপণ্যে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক

এপিএলের চেয়ারম্যান বিকুল ডেকা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন বিভাগের মালিকানাধীন দুটি জাহাজ প্রায় ৩০ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। এপিএল জাহাজ দুটি লিজ নিয়ে গুয়াহাটির পান্ডু ঘাটে এনে সম্পূর্ণ সংস্কার ও মেরামত করে বাণিজ্যিক চলাচলের উপযোগী করে তোলে। এখন সংস্কার করা এই দুই জাহাজই বগীবিল থেকে ঢাকা পর্যন্ত মিথানল পরিবহনে ব্যবহার করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক ও রেলপথের তুলনায় নদীপথে পণ্য পরিবহন তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। বগীবিল টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে মিথানলের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের আরও বিভিন্ন শিল্পপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।সম্ভাব্য পণ্যের তালিকায় রয়েছে ব্রহ্মপুত্র ক্র্যাকার অ্যান্ড পলিমার লিমিটেডের (বিসিপিএল) উৎপাদিত সামগ্রী, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, কয়লা ও চা। পাশাপাশি আসামের কাজী লেবু বা অসমীয়া লেবু, ভূত জলোকিয়া ও গোলমরিচের মতো জিআই-ট্যাগপ্রাপ্ত কৃষিপণ্যও আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি রপ্তানির নতুন সুযোগ পেতে পারে।

বিষয় : বাংলাদেশ ভারত নৌপথ পণ্য

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ক্রাইম এক্সপ্রেস

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


দেশভাগের পর প্রথমবার ব্রহ্মপুত্র নৌপথে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আসছে

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশভাগের পর প্রথমবারের মতো ব্রহ্মপুত্রের অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন হতে যাচ্ছে। আসামের ডিব্রুগড়ের বগীবিল থেকে ব্রহ্মপুত্র নদপথে বাংলাদেশে পাঠানো হবে নামরূপের আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের (এপিএল) উৎপাদিত মিথানল।

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর ডিব্রুগড় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ ব্যবহার করে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহন। ব্রিটিশ আমলে ব্রহ্মপুত্রকে কেন্দ্র করে ডিব্রুগড় গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজ এই নৌপথ ব্যবহার করে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি বিদেশের সঙ্গেও বাণিজ্য পরিচালনা করত। স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে সেই নদীপথভিত্তিক বাণিজ্য কমে যায়।কয়েক দশক পর নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রকেন্দ্রিক পুরোনো বাণিজ্যিক যোগাযোগ আবারও সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহনের জন্য বগীবিল ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট টার্মিনাল প্রায় প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুবিধার্থে সেখানে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা, আধুনিক জেটি ও গুদামঘর তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি নজরদারি ও কারিগরি সহায়তার জন্য একটি লাইটহাউস এবং ‘রিজিওনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ তৈরির কাজও চলছে।এপিএলের মিথানল পরিবহনের জন্য দুটি বিশেষ জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি জাহাজে থাকবে ২৭টি কনটেইনার। প্রতিটি কনটেইনারে ২০ টন করে মিথানল বহন করা হবে। ফলে একটি জাহাজে ৫৪০ টন এবং দুটি জাহাজে মোট ১ হাজার ৮০ টন মিথানল পরিবহন করা সম্ভব হবে।বগীবিল থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৭৮৩ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে জাহাজগুলোর আনুমানিক সাত দিন সময় লাগবে।

আড়ও পড়ুন,ভারতে বাংলাদেশি পাটপণ্যে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক

এপিএলের চেয়ারম্যান বিকুল ডেকা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন বিভাগের মালিকানাধীন দুটি জাহাজ প্রায় ৩০ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। এপিএল জাহাজ দুটি লিজ নিয়ে গুয়াহাটির পান্ডু ঘাটে এনে সম্পূর্ণ সংস্কার ও মেরামত করে বাণিজ্যিক চলাচলের উপযোগী করে তোলে। এখন সংস্কার করা এই দুই জাহাজই বগীবিল থেকে ঢাকা পর্যন্ত মিথানল পরিবহনে ব্যবহার করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক ও রেলপথের তুলনায় নদীপথে পণ্য পরিবহন তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। বগীবিল টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে মিথানলের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের আরও বিভিন্ন শিল্পপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।সম্ভাব্য পণ্যের তালিকায় রয়েছে ব্রহ্মপুত্র ক্র্যাকার অ্যান্ড পলিমার লিমিটেডের (বিসিপিএল) উৎপাদিত সামগ্রী, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, কয়লা ও চা। পাশাপাশি আসামের কাজী লেবু বা অসমীয়া লেবু, ভূত জলোকিয়া ও গোলমরিচের মতো জিআই-ট্যাগপ্রাপ্ত কৃষিপণ্যও আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি রপ্তানির নতুন সুযোগ পেতে পারে।


ক্রাইম এক্সপ্রেস

সম্পাদক : রিপন রুদ্র
নির্বাহী সম্পাদক:জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
দেশভাগের পর প্রথমবার ব্রহ্মপুত্র নৌপথে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আসছে
0:00 0:00
1.0x