শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

বাজারে চাল কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচে ক্রেতারা


ক্রাইম এক্সপ্রেস
ক্রাইম এক্সপ্রেস

বাজারে চাল কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচে ক্রেতারা
বাজারে চাল

রাজধানীর বাজারে আবারও বেড়েছে চালের দাম। গত এক থেকে দেড় সপ্তাহে সরু চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাঝারি মানের চালের দামও কেজিতে বেড়েছে প্রায় তিন টাকা। পাশাপাশি দেশি পেঁয়াজ রসুন ও খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি ও ডিম বিক্রি হচ্ছে আগের মতোই চড়া দামে। এতে নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও আগারগাঁও তালতলা বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ডায়মন্ড, মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল এখন প্রতি কেজি ৭৪ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এসব চালের দাম ছিল ৭২ টাকা। রশিদ ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬৫ টাকা, যা এক থেকে দেড় সপ্তাহ আগে দুই টাকা কম ছিল। আর মোজাম্মেল ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ টাকা কেজি। সরু চালের মধ্যে নাজিরশাইলের দামও বেড়েছে। মানভেদে এ চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৯৫ টাকা দরে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, গত এক থেকে দেড় সপ্তাহে নাজিরশাইলের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। মাঝারি মানের চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দাম এখন কেজিপ্রতি ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা। 

আরও পড়ুন,চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনায় চুক্তি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে

এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব চালের দাম কেজিতে প্রায় তিন টাকা বেড়েছে। তবে মোটা চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে এ চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে ধানের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ব্যবসায়ীরা। নওগাঁর শিউলি অটোমেটিক রাইস মিলের মালিক আমিনুল ইসলাম জানান, সরু চালের মধ্যে কাটারি চালের ৫০ কেজির বস্তায় ৫০ টাকা দাম বেড়েছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে এক টাকা। ধানের দাম বৃদ্ধির কারণে এ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চাল পরিবহনে ট্রাকভাড়াও বেড়েছে। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বরিশাল রাইস এজেন্সির ব্যবস্থাপক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ধান সংগ্রহ থেকে শুরু করে পাইকারি বাজারে চাল পৌঁছানো পর্যন্ত কয়েক ধাপে ট্রাক ব্যবহার করতে হয়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর প্রতিবার ট্রাক ভাড়ায় দুই থেকে তিন হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে চালের দাম গড়ে কেজিতে প্রায় এক টাকা বেড়েছে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের খুচরা চাল বিক্রেতা মো. লোকমান হোসেন বলেন, একটি ট্রাকে প্রায় ১৫ হাজার কেজি চাল থাকে। প্রতি কেজিতে এক টাকা দাম বাড়লে পুরো চালের হিসাবে খরচ বাড়ে ১৫ হাজার টাকা। তাঁর মতে, শুধু ট্রাকভাড়া বৃদ্ধি নয়, বাজার তদারকির ঘাটতিও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।

বিষয় : খরচ বাড়তি চাল

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ক্রাইম এক্সপ্রেস

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


বাজারে চাল কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচে ক্রেতারা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর বাজারে আবারও বেড়েছে চালের দাম। গত এক থেকে দেড় সপ্তাহে সরু চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাঝারি মানের চালের দামও কেজিতে বেড়েছে প্রায় তিন টাকা। পাশাপাশি দেশি পেঁয়াজ রসুন ও খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি ও ডিম বিক্রি হচ্ছে আগের মতোই চড়া দামে। এতে নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও আগারগাঁও তালতলা বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ডায়মন্ড, মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল এখন প্রতি কেজি ৭৪ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এসব চালের দাম ছিল ৭২ টাকা। রশিদ ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬৫ টাকা, যা এক থেকে দেড় সপ্তাহ আগে দুই টাকা কম ছিল। আর মোজাম্মেল ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ টাকা কেজি। সরু চালের মধ্যে নাজিরশাইলের দামও বেড়েছে। মানভেদে এ চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৯৫ টাকা দরে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, গত এক থেকে দেড় সপ্তাহে নাজিরশাইলের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। মাঝারি মানের চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দাম এখন কেজিপ্রতি ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা। 

আরও পড়ুন,চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনায় চুক্তি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে

এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব চালের দাম কেজিতে প্রায় তিন টাকা বেড়েছে। তবে মোটা চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে এ চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। চালের দাম বৃদ্ধির পেছনে ধানের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ব্যবসায়ীরা। নওগাঁর শিউলি অটোমেটিক রাইস মিলের মালিক আমিনুল ইসলাম জানান, সরু চালের মধ্যে কাটারি চালের ৫০ কেজির বস্তায় ৫০ টাকা দাম বেড়েছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে এক টাকা। ধানের দাম বৃদ্ধির কারণে এ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চাল পরিবহনে ট্রাকভাড়াও বেড়েছে। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বরিশাল রাইস এজেন্সির ব্যবস্থাপক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ধান সংগ্রহ থেকে শুরু করে পাইকারি বাজারে চাল পৌঁছানো পর্যন্ত কয়েক ধাপে ট্রাক ব্যবহার করতে হয়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর প্রতিবার ট্রাক ভাড়ায় দুই থেকে তিন হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে চালের দাম গড়ে কেজিতে প্রায় এক টাকা বেড়েছে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের খুচরা চাল বিক্রেতা মো. লোকমান হোসেন বলেন, একটি ট্রাকে প্রায় ১৫ হাজার কেজি চাল থাকে। প্রতি কেজিতে এক টাকা দাম বাড়লে পুরো চালের হিসাবে খরচ বাড়ে ১৫ হাজার টাকা। তাঁর মতে, শুধু ট্রাকভাড়া বৃদ্ধি নয়, বাজার তদারকির ঘাটতিও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।


ক্রাইম এক্সপ্রেস

সম্পাদক : রিপন রুদ্র
নির্বাহী সম্পাদক:জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
বাজারে চাল কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচে ক্রেতারা
0:00 0:00
1.0x