শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

সার পরিবহনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের আহ্বান


ক্রাইম এক্সপ্রেস
ক্রাইম এক্সপ্রেস

সার পরিবহনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের আহ্বান
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের আহ্বান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি অঞ্চলে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাবে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির প্রস্তাব, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে সার পরিবহনের ব্যবস্থা করা হোক। বুধবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকের ফাঁকে রয়টার্সকে এ কথা জানান জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা। তিনি বলেন, বীজ বপনের মৌসুম ঘনিয়ে আসায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবে সম্মত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। নির্ধারিত সময়ে কৃষকেরা সার না পেলে ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়বে খাদ্যের বাজারেও, বাড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। জাতিসংঘের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওমানে সংস্থাটির কর্মীদের পরিচালনায় একটি সমন্বয়কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এই কেন্দ্র থেকে জাহাজ নিবন্ধন এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল তদারকি করা হবে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হলে মাত্র সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে এ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন দা সিলভা।

আরোও পড়ুন,জ্যোতিনগর কলোনিতে পানিসংকট, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

তাঁর মতে, প্রতিদিন মাত্র পাঁচটি জাহাজ চলাচল করতে পারলেও জরুরি ভিত্তিতে সার প্রয়োজন এমন দেশগুলোতে সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। এদিকে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দামও বাড়ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার খাদ্যমূল্য সূচক সেপ্টেম্বরে প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা এর অন্যতম কারণ। এল নিনোর প্রভাবে চিনির দাম ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। অন্যদিকে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে গমের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তির দামও তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ইউরিয়া ও সালফারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সার এবং সার তৈরির কাঁচামাল পরিবহনও সংকটে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট ইউরিয়া পরিবহনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত সালফারের প্রায় অর্ধেক এই প্রণালি দিয়ে যেত। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং খাদ্যনিরাপত্তার সংকট আরও গভীর হতে পারে। তাই সম্ভাব্য বড় ধরনের খাদ্যসংকট এড়াতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন স্বাভাবিক করতে দ্রুত আন্তর্জাতিক সমঝোতার ওপর জোর দিচ্ছে জাতিসংঘ।

বিষয় : ইরান জাতিসংঘ যুক্তরাষ্ট্

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ক্রাইম এক্সপ্রেস

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


সার পরিবহনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি অঞ্চলে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাবে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির প্রস্তাব, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে সার পরিবহনের ব্যবস্থা করা হোক। বুধবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকের ফাঁকে রয়টার্সকে এ কথা জানান জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা। তিনি বলেন, বীজ বপনের মৌসুম ঘনিয়ে আসায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবে সম্মত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। নির্ধারিত সময়ে কৃষকেরা সার না পেলে ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়বে খাদ্যের বাজারেও, বাড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। জাতিসংঘের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওমানে সংস্থাটির কর্মীদের পরিচালনায় একটি সমন্বয়কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এই কেন্দ্র থেকে জাহাজ নিবন্ধন এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল তদারকি করা হবে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হলে মাত্র সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে এ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন দা সিলভা।

আরোও পড়ুন,জ্যোতিনগর কলোনিতে পানিসংকট, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

তাঁর মতে, প্রতিদিন মাত্র পাঁচটি জাহাজ চলাচল করতে পারলেও জরুরি ভিত্তিতে সার প্রয়োজন এমন দেশগুলোতে সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। এদিকে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দামও বাড়ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার খাদ্যমূল্য সূচক সেপ্টেম্বরে প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা এর অন্যতম কারণ। এল নিনোর প্রভাবে চিনির দাম ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। অন্যদিকে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে গমের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তির দামও তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ইউরিয়া ও সালফারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সার এবং সার তৈরির কাঁচামাল পরিবহনও সংকটে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট ইউরিয়া পরিবহনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত সালফারের প্রায় অর্ধেক এই প্রণালি দিয়ে যেত। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং খাদ্যনিরাপত্তার সংকট আরও গভীর হতে পারে। তাই সম্ভাব্য বড় ধরনের খাদ্যসংকট এড়াতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন স্বাভাবিক করতে দ্রুত আন্তর্জাতিক সমঝোতার ওপর জোর দিচ্ছে জাতিসংঘ।


ক্রাইম এক্সপ্রেস

সম্পাদক : রিপন রুদ্র
নির্বাহী সম্পাদক:জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সার পরিবহনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের আহ্বান
0:00 0:00
1.0x