ফ্রান্সের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডানপন্থী রাজনীতিক এরিক জেমুর।শুক্রবার বিএফএমটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রার্থিতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রিকনকোয়েস্ট পার্টির এই নেতা। ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চতুর্থ অবস্থানে থাকা জেমুর এবার অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে সামনে এনেছেন।জেমুর বলেছেন, তিনি ক্ষমতায় গেলে বিদেশি অপরাধীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেবেন। এমনকি কারাগারে না থাকা বিদেশিদের ক্ষেত্রেও এই নীতি প্রয়োগের কথা বলেছেন তিনি।এ ছাড়া অনিবন্ধিত অভিবাসীদের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বেকার থাকা এবং সরকারি কল্যাণ ভাতার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল বিদেশিদেরও নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন জেমুর।আগামী বছর প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবে ফ্রান্সে। এরই মধ্যে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হয়েছেন দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি পার্টির নেতা মেরিন লি পেনও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন।আড়ও পড়ুন,ইরানে মার্কিন হামলায় যুদ্ধাপরাধের যৌক্তিক কারণ পেয়েছে জাতিসংঘ গত দুই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি ম্যাক্রোঁর কাছে রানারআপ হন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে নির্বাচনের প্রথম দফায় লি পেনকে এগিয়ে থাকার তথ্য উঠে এসেছে।তবে নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় কারা মুখোমুখি হতে পারেন তা নিয়ে এখনো নানা সমীকরণ রয়েছে। সাম্প্রতিক একটি জরিপে মধ্যপন্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার ফিলিপের সঙ্গে লি পেনের সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বলা হয়েছে। আবার অন্য পরিস্থিতিতে কট্টর বামপন্থী নেতা জ্যাঁ-লুক মেলঁশঁ লি পেনের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন বলে জরিপে উঠে এসেছে।১৩ হাজার ভোটারের ওপর পরিচালিত ওই জরিপের ফলাফলে এসব সম্ভাব্য সমীকরণের কথা বলা হয়েছে। তবে নির্বাচন এখনো সামনে থাকায় প্রার্থিতা ও রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভোটারদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে স্মারকলিপি দিয়েছে আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলন।বুধবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সংগঠনটির সদস্যসচিব আল আমীন আটিয়া।স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধান সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে। সংবিধানের ২৭, ২৮ ও ৩১ অনুচ্ছেদে সমতা, বৈষম্যহীনতা এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ১২২ অনুচ্ছেদে প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটাধিকার ও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতার বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়েছে।স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, নির্বাচনসংক্রান্ত আইনে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভোটারদের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগের আইনি ভিত্তি রয়েছে।তাদের প্রশ্ন, জাতীয় নির্বাচনে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একই নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হবে না কেন?সংগঠনটির দাবি, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সাত দফা দাবি নিয়ে রংপুরমুখী লংমার্চের প্রচারে মাঠে জামায়াতআড়ও পড়ুন,তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।তাই অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান স্বীকৃত হলে নাগরিক হিসেবে তাদের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের অধিকারও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এ সময় বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভোটারদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।দাবি বাস্তবায়নে আইনসম্মত ও অহিংস গণতান্ত্রিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।প্রয়োজনে আদালতের আইনি পথ, জনমত গঠন এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন।প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর কয়েকটি ধাপে সারা দেশে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ পরিকল্পনার কথা জানান জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ।তিনি বলেন, আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে কয়েকটি ধাপে সারা দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করবে কমিশন।নির্বাচন কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আরও পড়ুন, আগামীকাল রাত থেকেই শিল্পে আগের মতো গ্যাস বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীরসরকারের ঘোষিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করা হবে।এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় আইনি কাঠামো নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কোনো আইন বা সংশোধন না এলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইনে কোনো পরিবর্তন বা সংশোধন না এলে বর্তমান আইন অনুসরণ করেই নির্বাচন আয়োজন করবে কমিশন। এতে নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণে কোনো আইনি বা কার্যগত জটিলতা থাকবে না।ইসি জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ করার পর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ নভেম্বর থেকেই ধাপে ধাপে দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।