তারকার বাইরে পৃথিবীর গল্পে জমজমাট টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসব
শীতের আগমনী হাওয়ায় টরন্টোর বাতাসে এখনো লেগে আছে চলচ্চিত্র উৎসবের আমেজ। কিং স্ট্রিট ওয়েস্টের রাইটম্যান স্কয়ার থেকে টিআইএফএফ লাইটবক্স—সর্বত্র সিনেমাপ্রেমী, চলচ্চিত্রকর্মী আর পর্যটকদের ভিড়।৫১তম টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের শেষ দিনে এসে স্পষ্ট হয়েছে এবারের বড় পরিবর্তন। শুধু বড় তারকা বা স্টুডিওনির্ভর সিনেমা নয়, বিশ্বের নানা প্রান্তের গল্প এবং ভিন্ন ভাষার ছবিও পেয়েছে উল্লেখযোগ্য জায়গা।পেনেলোপে ক্রুজ, হাভিয়ের বারদেম, সিনথিয়া এরিভো, নাওমি ওয়াটস, মিশেল ইয়ো ও ব্ল্যাকপিংক তারকা লিসার মতো পরিচিত মুখ উৎসবে দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্র ছিলেন। লিসাকে নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ‘অলওয়েজ লালিসা’র প্রদর্শনীতেও ছিল ব্যাপক আগ্রহ।তবে উৎসবের পর্দায় উঠে এসেছে আরও বড় এক পৃথিবী। ফিলিস্তিনি চিন্তাবিদ এডওয়ার্ড সাঈদ, ইউক্রেন যুদ্ধ, ভূমধ্যসাগরের অভিবাসন সংকট, শ্রমিক আন্দোলন এবং ইরানের নারীদের জীবন নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন চলচ্চিত্র।টিআইএফএফের প্রধান প্রোগ্রামিং কর্মকর্তা অনিতা লি জানিয়েছেন, তরুণ দর্শকেরা আবার প্রেক্ষাগৃহে ফিরছেন। মূলধারার বাইরের সিনেমা এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গল্পের প্রতি তাঁদের আগ্রহও বাড়ছে।এবার চীনা ভাষার ও চীন-প্রযোজিত ছবির উপস্থিতিও বেড়েছে। এশিয়ার অন্যান্য দেশের সিনেমাও জায়গা করে নিয়েছে উৎসবে।বাংলাদেশের জন্যও এবারের আয়োজন ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আড়ও পড়ুন,বাবা হওয়ার পর বদলে গেছে অনুপম রায়ের পূজার পরিকল্পনারুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ টরন্টো উৎসবের সেন্টারপিস বিভাগে প্রদর্শিত হয়েছে।প্রথমবারের মতো চালু হওয়া টিআইএফএফ চলচ্চিত্রবাজারেও ছিল বড় আয়োজন। ৯২টি দেশের ৭ হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন বলে আয়োজকদের তথ্য।সব মিলিয়ে ১১ দিনের আয়োজন শেষে টরন্টো উৎসবের বড় বার্তা হয়ে উঠেছে বৈচিত্র্য। তারকার পাশাপাশি অচেনা দেশের অচেনা গল্প দেখতেও আগ্রহী হয়ে উঠছেন নতুন প্রজন্মের দর্শকেরা।