যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে চলতি সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। আর এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে। সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনায় সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমেছে।সোমবার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৭১ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে ডিসেম্বরে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম কমেছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩১১ দশমিক ২০ ডলার।ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনোভোর মতে মূল্যস্ফীতির সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা অনেকটাই বেড়েছে। এর সঙ্গে তেলের দাম নতুন করে বাড়ায় মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য বলছে চলতি সপ্তাহের নীতি নির্ধারণী বৈঠকে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা এখন প্রায় ৮৯ শতাংশ। অথচ গত সপ্তাহে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে এই সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৬৭ শতাংশ।গোল্ডম্যান স্যাকস ও এইচএসবিসির মতো আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোও ধারণা করছে আগামী মঙ্গল ও বুধবারের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াতে পারে।শুধু সোনা নয় অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দেখা গেছে দরপতন।
আড়ও পড়ুন,পাচার হওয়া সম্পদে কর আদায়ে ৭ সদস্যের কমিটি
রুপার দাম কমেছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। প্ল্যাটিনামের দাম কমেছে ২ শতাংশ। আর প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ।এদিকে বাংলাদেশের বাজারে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম বর্তমানে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।আন্তর্জাতিক বাজারে বড় দরপতনের পর বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে এর কী প্রভাব পড়ে এখন সেদিকেই নজর রাখছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।
মতামত