শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
হরমুজে জাহাজে হামলা বাড়াচ্ছে ইরান, চাপে বিশ্ববাজার

হরমুজে জাহাজে হামলা বাড়াচ্ছে ইরান, চাপে বিশ্ববাজার

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম চড়া রাখতে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে ইরান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ধরন ও গতি পরিবর্তন করেছে দেশটি। ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে তেহরান। বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যুদ্ধের আগে এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ইরানের হুমকি ও হামলার কারণে প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আরোও পড়ুন,রিয়াদ বিমানবন্দরে একের পর এক হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসার উদ্বেগ সৌদিরএতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রায় ১০ দিন আগে থেকে বিধিনিষেধ অমান্যকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নতুন ধরনের আক্রমণাত্মক কৌশল প্রয়োগ শুরু করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের তেলের দাম কমানোর প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করাই এই কৌশলের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছেন তিনি। এদিকে, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ছোট নৌযানে অস্ত্রবিহীন পর্যবেক্ষক বা ‘স্পটার’ ব্যবহার করছে। এসব পর্যবেক্ষক মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ ও জ্বালানি সংকট যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী নভেম্বরে দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। সংঘাতের অবসানে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। দেশটির বন্দর ঘিরে নৌ অবরোধ জোরদার এবং নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা, জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে শঙ্কা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় জলপথে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তেহরানের অনুমোদিত রুটের বাইরে বা অননুমোদিত জলপথ ব্যবহার করতে গিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারগুলো সামুদ্রিক মাইনে আঘাত হেনে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাতে আইআরআইবি জানায়, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ট্যাংকার সামুদ্রিক মাইনের সংস্পর্শে আসার পর একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।আরও পড়ুন,নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে বিচার ব্যবস্থায় লিঙ্গ-সংবেদনশীলতা জরুরিতবে বিস্ফোরণে কতটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোর মালিকানা কী কিংবা কোনো হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না তাৎক্ষণিকভাবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বিস্ফোরণের এই খবর সামনে এসেছে। এর আগে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তেহরানের অনুমোদিত নিরাপদ রুট ছাড়া বিকল্প বা অননুমোদিত জলপথ ব্যবহার না করার জন্য প্রণালিটি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে সতর্ক করা হয়েছিল। হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তেল পরিবহন ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিস্ফোরণের খবরের পর আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে শঙ্কা

হরমুজে ট্যাংকারে হামলা বাড়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির আশপাশে জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে সর্বোচ্চ হামলার ঘটনা ঘটেছে। সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী ট্যাংকারে অন্তত ১২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্সের। মার্কিন নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার গত রোববার এক নোটে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে হামলা, হামলার চেষ্টা এবং জাহাজকে বিভিন্নভাবে হয়রানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে ড্রোনের ব্যবহার, নজরদারি এবং ভিএইচএফ রেডিওর মাধ্যমে জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টাও রয়েছে। এসব ঘটনায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি জড়িত বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আরও পড়ুন,সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পর বহু ফ্লাইট বাতিলের খবরজয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টারের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ইরানের উপস্থিতি বজায় রাখা এবং এই পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা তিনটি সূত্র জানিয়েছে, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির আশপাশে অন্তত ১২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাদের হিসাবে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এক সপ্তাহে এটিই ট্যাংকারে হামলার সর্বোচ্চ সংখ্যা। জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা বা আইএমওর আলাদা তথ্যেও একই সপ্তাহে জাহাজসংশ্লিষ্ট নয়টি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, কোনো ঘটনা যাচাই করে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করতে জাতিসংঘের সংস্থাটির তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। আইএমওর তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ১৩ জুলাই শুরু হওয়া সপ্তাহে সর্বোচ্চ আটটি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। এদিকে যুদ্ধের মধ্যেও উপসাগরীয় দেশগুলো জ্বালানি রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। গত সোমবার প্রকাশিত জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রায় অর্ধেক সময় এসব দেশের জ্বালানি তেল রপ্তানির পরিমাণ যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে ট্যাংকারে হামলা এবং সরবরাহব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এই বাড়তি রপ্তানি দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

হরমুজে ট্যাংকারে হামলা বাড়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ

হরমুজ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ট্যাঙ্কারে হামলা

কাতারের উত্তর উপকূলের অদূরে বহুজাতিক একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস বা ইউকেএমটিও। বুধবার মদিনাত আশ শামাল থেকে প্রায় ৯৪ কিলোমিটার উত্তরে সমুদ্রসীমায় ট্যাঙ্কারটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এতে কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি ইউকেএমটিও। হামলার পর ঘটনাটি তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।আক্রান্ত জাহাজটি কোন দেশের এবং কার মালিকানাধীন সে বিষয়েও এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কাতারের এক্সক্লুসিভ অর্থনৈতিক অঞ্চলে হামলার ঘটনা ঘটলেও দেশটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।আরও পড়ুন,যুদ্ধের তিন বছর পরও গাজাবাসীর শেষ হয়নি বেঁচে থাকার সংগ্রামবাণিজ্যিক নৌ পরিবহন বিষয়ক সাময়িকী দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরের মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে এ ধরনের হামলা তুলনামূলক বিরল। ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরের শুরুতেই হরমুজ প্রণালিতে ৯টি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যা সেপ্টেম্বর মাসে হওয়া মোট হামলার প্রায় অর্ধেক। এদিকে এসব হামলার মধ্যেও কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে দৈনিক তেল রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব গড় ১৮ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে বেড়ে ১৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হরমুজ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ট্যাঙ্কারে হামলা

হরমুজ প্রণালী খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের পরিকল্পনা ইরানের

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের কাছে প্রস্তাব করেছে তেহরান।শুক্রবার জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে আরাকচি বলেন, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিয়েছে ইরান। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়ে সাত দিনের মধ্যে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব বলে জানান তিনি।এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাকচি। ওই বৈঠকের আগে যুদ্ধ বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহন পথ পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শর্তগুলো তুলে ধরা হয়।আরাকচি বলেন, এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। চাপ হুমকি বা ভয় দেখিয়ে ইরানকে কোনো সিদ্ধান্তে বাধ্য করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিক হলে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইরানের রয়েছে।বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রস্তাবে মধ্যপ্রাচ্যে সাত দিনের জন্য সামরিক সংঘাত বন্ধের বিষয়টি রয়েছে। এর আওতায় লেবাননকেও রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রস্তাবিত শর্তগুলোর মধ্যে বিদেশে আটকে থাকা অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইরানি সম্পদ ছাড় করা এবং ইরানের তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি রয়েছে। আড়ও পড়ুন,নাগাল্যান্ডে সন্দেহভাজন অবৈধ মদ পান করে ১৯ জনের মৃত্যুপাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ বন্ধের দাবিও করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতির সপ্তম দিনে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি জানিয়েছেন, ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের অবসানও ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে।এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্য নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়।হরমুজ প্রণালী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি। এই পথকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।ইরানের দাবি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। অন্যদিকে প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি সামরিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের পরিকল্পনা ইরানের

সমঝোতা হলে ৭ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সাত দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব।শুক্রবার জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে আরাকচি বলেন কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিয়েছে তেহরান। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের।এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাকচি। বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শর্তগুলো তুলে ধরা হয়।আরাকচি বলেন চাপ হুমকি বা ভয় দেখিয়ে ইরানকে কোনো সিদ্ধান্তে বাধ্য করা যাবে না। আরও পড়ুন,তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে ৫ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প চাপের মুখে দেশটি তার সার্বভৌম অধিকারও ছাড়বে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি সমঝোতা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিক হয় তাহলে সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইরানের প্রস্তাবে মধ্যপ্রাচ্যে সাত দিনের জন্য সামরিক সংঘাত বন্ধের বিষয়টি রয়েছে। এর আওতায় লেবাননও থাকবে। পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় করা তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ বন্ধের মতো শর্তও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতির সপ্তম দিনে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি জানিয়েছেন ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের অবসানও তেহরানের দাবিগুলোর অন্যতম।হরমুজ প্রণালী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি। ফলে এই নৌপথের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে।

 সমঝোতা হলে ৭ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে ইরান

সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলতে প্রস্তুত ইরান

তবে এর জন্য ওয়াশিংটনকে প্রথমে কূটনৈতিক পথে সংকট সমাধানের আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত দিতে হবে বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী এরপর আলোচনার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে তার একটি সময়সূচি নিয়েও দুই পক্ষকে একমত হতে হবে।ইরানের এই বার্তা এসেছে এমন সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রোববার ইরানের সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড সতর্ক করে বলেছে আঞ্চলিক দেশগুলোর সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তাদের জানানো হয়েছে। এর জবাবে তেহরান কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এদিকে ইরানের প্রতিনিধি দল বর্তমানে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রয়েছে। ইরানি ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার পূর্ণ ক্ষমতা প্রতিনিধি দলকে দেওয়া হয়েছে।ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও মঙ্গলবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।আড়ও পড়ুন,ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র তবে ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ইরানের দাবি অনুযায়ী ১৬ সেপ্টেম্বর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তেহরানের একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।ইরানি ওই কর্মকর্তা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিতে ফেরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী ওয়াশিংটন বাস্তব পদক্ষেপ নিলে তেহরানও কূটনৈতিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে প্রস্তুত।এরই মধ্যে ইরানের হরমুজ পুনরায় খোলার সম্ভাবনার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মঙ্গলবার তেলের দাম কমে দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলতে প্রস্তুত ইরান

হরমুজে তৃতীয় মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান।দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এটি তাদের হাতে ধ্বংস হওয়া তৃতীয় মার্কিন এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন।মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালির আকাশে একটি মার্কিন ড্রোন শনাক্ত করার পর সেটিকে অনুসরণ করা হয়। পরে উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে।ইরানের দাবি, ড্রোনটি দেশটির সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নজরদারির মধ্যে ছিল। একপর্যায়ে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সেটিকে ধ্বংস করা হয়।আড়ও পড়ুন,কক্ষপথে মহাকাশ অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্রইরানের ভাষ্য, কোনো ধরনের হামলা চালানোর সুযোগ পাওয়ার আগেই ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে।এর কয়েক ঘণ্টা আগেও একই এলাকায় আরেকটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছিল ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এর আগে গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি আরও একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছিল ইরানের সেনাবাহিনী।সাম্প্রতিক এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।ইরান বলছে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে সামরিক ও সামুদ্রিক তৎপরতার ওপর নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা হয়েছে।এদিকে, সামরিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ ধারণা করছেন, মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতির পর যুক্তরাষ্ট্র পুরোনো এমকিউ-১ মডেলের ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়েছে।তবে ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন ভূপাতিতের দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।ফলে ইরানের দাবির সত্যতা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ কোনো নিশ্চয়তা নেই। হরমুজ প্রণালিতে দুই দেশের সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই নজর এখন পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে।

হরমুজে তৃতীয় মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের