বার্সেলোনার জার্সিতে যেমন ছিলেন আপন মহাতারকা তেমনি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ছিলেন সমালোচনার কেন্দ্রে। ক্লাবের হয়ে একের পর এক ব্যক্তিগত ও দলীয় সাফল্য পেলেও দেশের হয়ে শিরোপা জিততে না পারায় আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে একসময় চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিলেন লিওনেল মেসি। সেই দুঃখ আর অভিমানে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরও নিয়েছিলেন তিনি। তবে অবসর ভেঙে ফিরে আসার পর যেন নতুন এক মেসির জন্ম হয়। একের পর এক রেকর্ড গড়ে আর্জেন্টিনাকে এনে দেন শিরোপা। শেষ পর্যন্ত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জিতে পূর্ণ করেন আজন্ম স্বপ্ন। ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় ১৮ বছর বয়সী মেসির। কিন্তু অভিষেকটা ছিল দুঃস্বপ্নের। বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ৪৪ সেকেন্ডের মধ্যে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ২০০৬ বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ আর্জেন্টাইন হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেক করেন মেসি।
আরও পড়ুন,অভিযোগের পর এসেক্সের হয়ে আর মাঠে নামেননি রবিন
সার্বিয়ার বিপক্ষে ৬-০ গোলের জয়ে করেন বিশ্বকাপের প্রথম গোল। ২০০৮ সালে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে অলিম্পিকের স্বর্ণপদক জেতেন তিনি। এরপর আসে হতাশার সময়। ২০১০ বিশ্বকাপ ও ২০১১ কোপা আমেরিকায় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। ২০১৪ বিশ্বকাপে দলকে ফাইনালে তুললেও জার্মানির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়। এরপর ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালেও ব্যর্থ হয় আর্জেন্টিনা। টানা ফাইনাল হারের পর ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। কিন্তু ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে ফিরে আসেন জাতীয় দলে। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটান। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ। ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। মেসি জেতেন গোল্ডেন বল। ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের উত্তরাধিকার আরও সমৃদ্ধ করেন।
মতামত