যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে পতন হয়েছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। একই সময়ে চীন ও ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে যথাক্রমে ২৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ ও ২৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
তবে বাংলাদেশের রপ্তানি কমার হার কিছুটা কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশের অবস্থান হারিয়েছে বাংলাদেশ। আগস্ট শেষে চীন বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনাম। বাংলাদেশ নেমে গেছে তৃতীয় অবস্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে। তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
আরও পড়ুন,দেশে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে লিটারপ্রতি ১৭ টাকা
এই সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ১৭৬ কোটি বর্গমিটার তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। পরিমাণের হিসাবে এই রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। প্রতি বর্গমিটার পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ০৭ ডলার। গত বছরের তুলনায় এই মূল্যও কমেছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে প্রথম আট মাসে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ৫৬৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। ফলে বাংলাদেশের চেয়ে চীনের রপ্তানি প্রায় ২৪ কোটি ডলার বেশি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করেছে ভিয়েতনাম। দেশটির রপ্তানির পরিমাণ ১ হাজার ৯৮ কোটি ডলার। তবে তাদের রপ্তানিও কমেছে দশমিক ৭৬ শতাংশ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। শীর্ষ রপ্তানিকারকদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ ও ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কিছুটা কমলেও চীন ও ভারতের তুলনায় পতনের হার কম। তবে রপ্তানির অবস্থান ধরে রাখতে বাংলাদেশকে এখন ভিয়েতনাম ও চীনের সঙ্গে বাড়তি প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
মতামত