সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ কার্যকর ধরা হয়েছে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। তবে নতুন এই বেতন স্কেলের সুবিধা পাবেন না সব সরকারি কর্মচারী। প্রকাশিত গেজেটে নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণির চাকরিজীবীকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।গেজেট অনুযায়ী বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে কর্মরত ব্যক্তিরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর আওতায় থাকবেন না। একইভাবে প্রতিরক্ষা প্রাক্কলন থেকে বেতন পাওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের বাদ দিয়ে প্রতিরক্ষা সার্ভিসে নিয়োজিত কর্মচারীরাও এই আদেশের বাইরে থাকবেন।এ ছাড়া পুলিশ বাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবির কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও নতুন পে স্কেল প্রযোজ্য হবে না। রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট শ্রেণির শ্রমিক শিক্ষানবিশ ও প্রশিক্ষণার্থীদেরও এই বেতন স্কেলের বাইরে রাখা হয়েছে।আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তি দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োজিত সাময়িক শ্রমিক এবং চুক্তিভিত্তিক বা খণ্ডকালীন কর্মীরাও জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর সুবিধা পাবেন না।এদিকে নতুন বেতন স্কেল একসঙ্গে পুরোপুরি কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গেজেট অনুযায়ী ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বেতন বৃদ্ধির হার আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
আড়ও পড়ুন,সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রথম ধাপে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নতুন বেতন স্কেলে নির্ধারিত বেতন এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে পাওয়া বা প্রাপ্য বর্তমান বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ পাবেন ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীরা। আর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা পাবেন এই পার্থক্যের ৫০ শতাংশ।দ্বিতীয় ধাপে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বদের ক্ষেত্রে এই হার হবে ৭০ শতাংশ। আর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য হবে ৭৫ শতাংশ।সবশেষে ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টসহ জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী মূল বেতন শতভাগ কার্যকর হবে।নতুন বেতন স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও এর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে ১৯ সেপ্টেম্বর। ফলে ১ জুলাই থেকে গেজেট প্রকাশের আগ পর্যন্ত সময়ের বেতন বকেয়া হিসেবে পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।তবে ওই সময়ের বকেয়া অর্থ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগে পাওয়া বিশেষ সুবিধার অর্থ সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ নতুন বেতন স্কেলের সঙ্গে সমন্বয় করে যে অর্থ দেওয়া হবে সেখান থেকে কর্মচারীরা আগে পাওয়া বিশেষ সুবিধার অর্থ হিসাব করে নেওয়া হবে।
মতামত