রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

আশির দশকের নস্টালজিয়ায় জমে উঠেছে রায়ান রেনল্ডসের ‘মে ডে’


ক্রাইম এক্সপ্রেস
ক্রাইম এক্সপ্রেস

আশির দশকের নস্টালজিয়ায় জমে উঠেছে রায়ান রেনল্ডসের ‘মে ডে’
উঠেছে রায়ান রেনল্ডসের ‘মে ডে’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশির দশকের ছবি নিয়ে যখন নস্টালজিয়ায় মেতেছে বিশ্ব তখন সেই সময়ের আবহেই দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছে নতুন সিনেমা ‘মে ডে’। অ্যাপল টিভি প্লাসে মুক্তির পর থেকেই বাডি অ্যাকশন কমেডি ঘরানার এই সিনেমাটি দর্শক ও সমালোচকদের নজর কেড়েছে।জন ফ্রান্সিস ড্যালি ও জোনাথন গোল্ডস্টেইনের পরিচালনায় ‘মে ডে’তে অভিনয় করেছেন রায়ান রেনল্ডস কেনেথ ব্রানা ও মারচিন দোরচিনস্কি। প্রায় ১ ঘণ্টা ৫১ মিনিটের এই সিনেমার গল্প শুরু ১৯৮৭ সালে।গল্পে মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলট ট্রয় ‘অ্যাসাসিন’ কেলি একটি গোপন মিশনে সোভিয়েত আকাশসীমায় প্রবেশ করেন। তাঁর যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলে বরফঢাকা দুর্গম এলাকায় আহত অবস্থায় পড়ে থাকেন তিনি। পরে জ্ঞান ফিরে জানতে পারেন তাঁকে আশ্রয় দিয়েছেন স্থানীয় এক রুশ নাগরিক নিকোলাই উস্তিনভ।তবে নিকোলাই সাধারণ কোনো নাগরিক নন। তিনি সাবেক কেজিবি কর্মকর্তা। আরও চমক হলো সোভিয়েত ব্যবস্থায় বীতশ্রদ্ধ নিকোলাই মার্কিন পপ কালচারের বড় ভক্ত। তাঁর ঘরে ‘টপ গান’-এর পোস্টার থেকে শুরু করে আমেরিকান সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ রয়েছে।এর মধ্যেই কেলিকে ধরতে অভিযান শুরু করে কেজিবি। ফলে নিজের দেশেই বিপদে পড়ে যান নিকোলাই। বাধ্য হয়ে মার্কিন পাইলট কেলিকে নিয়ে শুরু করেন বিপজ্জনক যাত্রা। তাঁদের লক্ষ্য মস্কোর মার্কিন দূতাবাসে পৌঁছানো।একজন মার্কিন সামরিক পাইলট আর অন্যজন সাবেক কেজিবি কর্মকর্তা। 

আড়ও পড়ুন,পোশাক নয় আলোকচিত্রীদের আচরণেই অস্বস্তি ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর

মতাদর্শ ও পরিচয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত এই দুই মানুষ ধীরে ধীরে পরিণত হন অসম্ভব এক জুটিতে।‘মে ডে’ শীতল যুদ্ধের রাজনৈতিক জটিলতা নিয়ে গভীরে যায়নি। বরং বিপদের সময় মানুষে মানুষে সম্পর্ককেই গুরুত্ব দিয়েছে। বরফঢাকা বন গাড়ি ধাওয়া ট্রেন উড়োজাহাজ আর নানা অ্যাকশন দৃশ্যের পাশাপাশি রয়েছে কমেডির ছোঁয়া।তবে সিনেমাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ কেনেথ ব্রানা। নিকোলাই চরিত্রে তিনি একই সঙ্গে হাস্যরস বিষণ্নতা বিদ্রোহ ও মানবিকতার মিশেল তৈরি করেছেন। ৬৫ বছর বয়সেও তাঁর অ্যাকশন দৃশ্য দর্শকদের চমকে দেওয়ার মতো।রায়ান রেনল্ডস ও কেনেথ ব্রানার রসায়নও সিনেমাটির অন্যতম শক্তি। দুজনের পারস্পরিক অবিশ্বাস থেকে বন্ধুত্বে পৌঁছানোর যাত্রাই হয়ে উঠেছে গল্পের সবচেয়ে উপভোগ্য অংশ।তবে ‘মে ডে’ একেবারে নিখুঁত নয়। কিছু চরিত্রকে আরও গুরুত্ব দেওয়া যেত। আর আশির দশকের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা কখনো কখনো সিনেমাটিকে গল্পের চেয়ে নস্টালজিয়ার প্রদর্শনী মনে করিয়েছে।তারপরও ‘টপ গান’ আর আশির দশকের বাডি অ্যাকশন সিনেমার প্রতি ভালোবাসা থেকে তৈরি ‘মে ডে’ নিঃসন্দেহে বিনোদন দিতে সক্ষম একটি সিনেমা।

বিষয় : রেনল্ডস উঠে দশক

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ক্রাইম এক্সপ্রেস

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আশির দশকের নস্টালজিয়ায় জমে উঠেছে রায়ান রেনল্ডসের ‘মে ডে’

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশির দশকের ছবি নিয়ে যখন নস্টালজিয়ায় মেতেছে বিশ্ব তখন সেই সময়ের আবহেই দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছে নতুন সিনেমা ‘মে ডে’। অ্যাপল টিভি প্লাসে মুক্তির পর থেকেই বাডি অ্যাকশন কমেডি ঘরানার এই সিনেমাটি দর্শক ও সমালোচকদের নজর কেড়েছে।জন ফ্রান্সিস ড্যালি ও জোনাথন গোল্ডস্টেইনের পরিচালনায় ‘মে ডে’তে অভিনয় করেছেন রায়ান রেনল্ডস কেনেথ ব্রানা ও মারচিন দোরচিনস্কি। প্রায় ১ ঘণ্টা ৫১ মিনিটের এই সিনেমার গল্প শুরু ১৯৮৭ সালে।গল্পে মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলট ট্রয় ‘অ্যাসাসিন’ কেলি একটি গোপন মিশনে সোভিয়েত আকাশসীমায় প্রবেশ করেন। তাঁর যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলে বরফঢাকা দুর্গম এলাকায় আহত অবস্থায় পড়ে থাকেন তিনি। পরে জ্ঞান ফিরে জানতে পারেন তাঁকে আশ্রয় দিয়েছেন স্থানীয় এক রুশ নাগরিক নিকোলাই উস্তিনভ।তবে নিকোলাই সাধারণ কোনো নাগরিক নন। তিনি সাবেক কেজিবি কর্মকর্তা। আরও চমক হলো সোভিয়েত ব্যবস্থায় বীতশ্রদ্ধ নিকোলাই মার্কিন পপ কালচারের বড় ভক্ত। তাঁর ঘরে ‘টপ গান’-এর পোস্টার থেকে শুরু করে আমেরিকান সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ রয়েছে।এর মধ্যেই কেলিকে ধরতে অভিযান শুরু করে কেজিবি। ফলে নিজের দেশেই বিপদে পড়ে যান নিকোলাই। বাধ্য হয়ে মার্কিন পাইলট কেলিকে নিয়ে শুরু করেন বিপজ্জনক যাত্রা। তাঁদের লক্ষ্য মস্কোর মার্কিন দূতাবাসে পৌঁছানো।একজন মার্কিন সামরিক পাইলট আর অন্যজন সাবেক কেজিবি কর্মকর্তা। 

আড়ও পড়ুন,পোশাক নয় আলোকচিত্রীদের আচরণেই অস্বস্তি ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর

মতাদর্শ ও পরিচয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত এই দুই মানুষ ধীরে ধীরে পরিণত হন অসম্ভব এক জুটিতে।‘মে ডে’ শীতল যুদ্ধের রাজনৈতিক জটিলতা নিয়ে গভীরে যায়নি। বরং বিপদের সময় মানুষে মানুষে সম্পর্ককেই গুরুত্ব দিয়েছে। বরফঢাকা বন গাড়ি ধাওয়া ট্রেন উড়োজাহাজ আর নানা অ্যাকশন দৃশ্যের পাশাপাশি রয়েছে কমেডির ছোঁয়া।তবে সিনেমাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ কেনেথ ব্রানা। নিকোলাই চরিত্রে তিনি একই সঙ্গে হাস্যরস বিষণ্নতা বিদ্রোহ ও মানবিকতার মিশেল তৈরি করেছেন। ৬৫ বছর বয়সেও তাঁর অ্যাকশন দৃশ্য দর্শকদের চমকে দেওয়ার মতো।রায়ান রেনল্ডস ও কেনেথ ব্রানার রসায়নও সিনেমাটির অন্যতম শক্তি। দুজনের পারস্পরিক অবিশ্বাস থেকে বন্ধুত্বে পৌঁছানোর যাত্রাই হয়ে উঠেছে গল্পের সবচেয়ে উপভোগ্য অংশ।তবে ‘মে ডে’ একেবারে নিখুঁত নয়। কিছু চরিত্রকে আরও গুরুত্ব দেওয়া যেত। আর আশির দশকের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা কখনো কখনো সিনেমাটিকে গল্পের চেয়ে নস্টালজিয়ার প্রদর্শনী মনে করিয়েছে।তারপরও ‘টপ গান’ আর আশির দশকের বাডি অ্যাকশন সিনেমার প্রতি ভালোবাসা থেকে তৈরি ‘মে ডে’ নিঃসন্দেহে বিনোদন দিতে সক্ষম একটি সিনেমা।


ক্রাইম এক্সপ্রেস

সম্পাদক : রিপন রুদ্র
নির্বাহী সম্পাদক:জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
আশির দশকের নস্টালজিয়ায় জমে উঠেছে রায়ান রেনল্ডসের ‘মে ডে’
0:00 0:00
1.0x