শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতা এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। এই সমস্যা ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সংকট চিহ্নিত করে সরকার পরিকল্পনা করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছে।বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ হিসেবে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এতে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যা এরই মধ্যে সমাধান হয়েছে বলে জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাস সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলে তারা আশা করছেন।ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। জিটুজি ভিত্তিতে এ টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমস্যার সমাধানে সরকারের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে। কিছুটা সময় এদিক-সেদিক হলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্প ও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে। তাই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধান শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থ নয় বরং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।একই সঙ্গে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে সরকারকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আড়ও পড়ুন,হামে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ১ লাখ ৭২ হাজার
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দ্রুত সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে সরকার সংকট মোকাবিলায় সময়সীমাবদ্ধ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিন ঘণ্টার মতবিনিময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্যাস সংকটের অন্যতম কারণ ছিল ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনা। সেই সমস্যা সমাধান হওয়ায় আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফেরার আশা করছে সরকার।দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা পূরণে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। জিটুজি ভিত্তিতে এর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নয় বরং পুরো দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।
মতামত